পড়াশোনা অর্থনীতিতে, কিন্তু টান পর্যটনে। সেই সুবাদে প্রায় ১০ বছর কাজ করা, একটা সময় নিজেই উদ্যোগী হয়ে ট্যুরিজম ফার্ম তৈরি। বলছিলাম মেহেদী হাসানের কথা।
বাংলাদেশ পর্যটনে ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে এই তরুণ নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান খোলার। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা। এজন্য তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রয়েছে অভিনব কিছু উদ্যোগ।
২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ইকো এডভেঞ্চার এখন কাজ করছে বেশ কয়েকটি জেলায়। সেখানে স্থানীয়দের দিয়েছে গাইডিংয়ের প্রশিক্ষণ। একদল বেকার যুবকের হয়েছে কর্মসংস্থান।
মেহেদী জন্ম ও বেড়ে উঠা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। স্কুল ও কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। ঢাকা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু সবসময়ই ইচ্ছে ছিল পর্যটনে কাজ করার। ঘুরে বেড়ানোর নেশা খেকে একটা সময় এটাই হয়ে গেল পেশা।
শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যান বেঙ্গল দ্য বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড। দীর্ঘ সময় সেখানে কাজ করেন। কাজ করার সুযোগ হয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গেও। দীর্ঘ ৯ বছরের অভিজ্ঞতার পর নতুন কিছু করতে চান তিনি।
সেই ভাবনা থেকেই বাংলাদেশ ইকো এডভেঞ্চারের যাত্রা শুরু। রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় একটি ছোট অফিসে চলে এর কার্যক্রম। কিন্তু এখান থেকেই বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন মেহেদী।
আর তার স্বপ্ন পূরণও হচ্ছে আস্তে আস্তে। প্রতিবছরই সহস্রাধিক দর্শনার্থী তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। আর বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিযে দেয়ার জন্য তার কিছু অভিনব পন্থা রয়েছে।
বিদেশিদের ভ্রমণের মাঝে ইকো এডভেঞ্চার্সের পক্ষ থেকে অন্তত একদিন সময় রাখেন যেদিন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। কখনও সেটা শিল্পকলায় বাংলাদেশের নাটক, কখনও জামদানী পল্লীতে বাংলাদেশের শাড়ি দেখানো হয়। কখনোবা বাংলাদেশের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
মেহেদী চান বিদেশিরা যেন বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যায়। এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেন। এজন্য বিদেশি অতিথিদের আগে থেকেই নির্দেশনা দেয়া হয় যেন তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করে আসেন। এতে করে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট হবে।
মেহেদী বলেন, বাংলাদেশে গাইডিং বিষয়টি পেশা হিসেবে এখনও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এর কারণ হিসেবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পর্যটন বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ভালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড বাংলাদেশকে সুন্দর ও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পারবে।
তার প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে গাইডদের বৃহৎ পরিসরে প্রশিক্ষণ দিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইকো এডভেঞ্চার্সের আরেকটি দিক থেকে অনন্য। তা হলো তাদের লাভের অংশ তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ব্যয় করে। কখনও সুবিধাবঞ্চিতদের পড়াশোনার বস্তু, কখনওবা খেলার জিনিস। সবসময়ই তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি।
মেহেদী চান তার মতো নতুন উদ্যোক্তাদের যেন কর্তৃপক্ষ যথাযথ সমর্থন দেয়। কারণ পর্যটন খাত খুব বড় এবং সম্ভাবনাময় খাত। এই শিল্পকে গড়ে তুলতে পারলে আদতে দেশেরই উন্নতি হবে।
