বহুল আলোচিত ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা কমছে না। ব্যবসায়ীরা দাবি জানালেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছর ১৫ শতাংশ হার রেখেই ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। তবে তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে তা ভিন্ন ভিন্ন হারে করা যেতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তবে সব খাতে ১৫ শতাংশ হার রেখে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কঠোর বিরোধিতা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্যাকেজ প্রথা বাদ দিয়ে কোন ভাবেই নতুন আইন বাস্তবায়ন হতে দেব না। প্রয়োজনে রাজপথে (আন্দোলন) নামব।
সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। আমাদের দেশেও হতে পারে। আপত্তি নেই। তবে এবার ১৫ শতাংশই রাখছি। আলোচনায় অংশ নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ ভ্যাট আইন নিয়ে সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। ওই কমিটি ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট কার্যকরের সুপারিশ করে। এছাড়া প্যাকেজ পদ্ধতি রাখাসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে তাদের সুপারিশ থাকলেও কার্যত সরকার তা গ্রহণ করেনি। সভায় এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব বলেন, প্যাকেজ প্রথা বাদ দিয়ে আইন কার্যকর করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমর্থন দেবেন না। তারা প্রয়োজনে রাজপথে নামবেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ছাড়াও অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন এফবিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মাহবুবুল আলম, সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আহমদ প্রমুখ।
প সঙ্গত, সরকার ২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন পাশ করলেও আইনটি কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী জুলাই থেকে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ (বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ) পদ্ধতিতে ভ্যাট দিলেও নতুন আইনে তা থাকছে না। ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাটের বদলে সবার জন্য একই হার অর্থাত্ ১৫ শতাংশ কার্যকর হচ্ছে।
সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সরকারকে বাস্তবায়ন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সভায় আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের উপর করের বোঝা বাড়বে কি না-এফবিসিসিআই সভাপতির এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এমন বাজেট দেব যাতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ে।’
