সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে ঝড়-শিলাবৃষ্টি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৬, ০৯:১২
সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বৃহস্পতিবার কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে এক কিশোরী নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খরব ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের।
 
সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর: সুনামগঞ্জর বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। এসময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১০ জন।  ঝড়ের পর থেকে জেলা সদরসহ দুর্গত এলাকার বিদ্যুত্ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদ্যুত্ ব্যবস্থা চালু করে বিদ্যুত্ বিভাগ। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে কালবৈশাখী   ঝড় বয়ে যায়। এতে একজন নিহত ও কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। প্রশাসন জানায়, তাত্ক্ষণিকভাবে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যায়নি।
 
ঝড়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছে তানজিনা আক্তার (১২) নামের এক কিশোরী। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। সূত্র জানায়, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার বাধাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগর, শাহিদাবাদ, মুকসেদপুরসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর, সলুকাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুরসহ চারটি গ্রাম। এসব এলাকায় মাটি উপড়ে পড়ে যায় হাজারো গাছ। বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালে ঝড়ে উড়ে যাওয়া টিন আটকে আছে।
 
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): নাগেশ্বরীতে কালবৈশাখীর আঘাতে বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬টি ইউনিয়নের সহস্রাধিক বাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান।
 
হঠাত্ কালবৈশাখী ঝড় উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জ, বল্লভেরখাস, কেদার, নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যায়। সেই সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। এতে বামনডাঙ্গা, কুটি বামনডাঙ্গার চর, সেনপাড়া, পাটেশ্বরী, বেরুবাড়ী গুচ্ছগ্রাম, আকন্দপাড়া, ফান্দেরচর, আদর্শপাড়া, সবুজপাড়া, কুমোদপুর, চর বেগুনীপাড়া, কাপালীপাড়া, ভেলকারচর, পাইকপাড়া, চর বলরামপুর, খাসমহল, ধারিয়ারপাড়, নামারচর, চর রহমানের কুটি, মাদারগঞ্জ, ফান্দিরভিটা, পাখিউড়া, ঝাউকুটি, ধনীরামপুর, তরীরহাটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে আহত হয়েছেন কুটি বামনডাঙ্গার চর গ্রামের আকবর আলী, বাবু মিয়া, চর রহমানের কুটির সাহেরা খাতুন, চর বেগুনীপাড়ার নুরজামাল মিয়া, সাহেরা বেগম, আ. ছালাম, আ. কাদের, তাহের আলী, ছালমা খাতুন, আ. হাই ও হাশেম আলীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।
 
ঘরগুলোর বেশিরভাগ অংশই ঝড়ে উড়ে গেছে। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরহারা এ মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। বেগুনীপাড়া গ্রামের আরফান আলী জানান, ঝড়ে তার ৩২ হাত লম্বা একটি টিনের ঘর উড়ে গেছে। অনেক খুঁজে ৩ কিলোমিটার দূরে ব্যবহার অনুপযোগী কিছু টিন পেলেও বাকি টিন এখনো পাইনি।