বাঁশখালীতে ইট মালিক গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩৫

আপডেট : ০১ মে ২০১৬, ১৮:২৫
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব ইলশা গ্রামে অবৈধ দুই ইট ভাটির মালিক গ্রুপের মধ্যে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুর ২ টার দিকে সংঘটিত সংঘর্ষের এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে ১ জন নিহত সহ গুলিবিদ্ধ হয়েছে অন্তত ৩৫ জন।
 
সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম মো. শোয়াইব (৩০)। আহতদের মধ্যে, আহমদ রশিদ (৩০), মো. রাশেদ (২৬), মো. শহীদ (৩২), আবু বক্কর (৪০), আবদুল আজিজ (৩৫), মো. কামাল (৪৮), মো. মোরশেদ (২৭), সাইফুল হক (৬৫), মফিজ (৩০), হারুন (২৮), মোঃ ছগির (২৮), আহমদ উল্লাহ (৩০), আবদুল বারী (৬৫), শামসু মিয়া (৬০), নেজাম উদ্দিন (৩৫), নুর আহমদ (৩৫), ইকবাল (১৭), মোস্তাক (৩৫), রহমত উল্লাহ (৩০) কে মুর্মুর্ষু অবস্থায় বাঁশখালী হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৌরভ দাশ আশংকাজনক অবস্থায় তাদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
 
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা করে বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 
এদিকে এ ঘটনাকে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে উল্লেখ করেছে থানা পুলিশ। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহারছড়ার ইলশা গ্রামের ধানি জমির উপর নির্মিত চৌধুরী ব্রিক্স ও মদিনা ব্রিক্স। চৌধুরী ব্রিক্সের মালিক মর্তুজ আলী চৌধুরী ও মদিনা ব্রিক্সের মালিক নুরুল আবছার (প্র. মদিনা আবছার) এর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ইটভাটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধ নিয়ে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। রবিবার সকাল থেকে উভয় গ্রুপ তাদের অধিপত্য বিস্তাার ও ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনে ওই এলাকায় জড়ো হয়।
 
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে ৬০-৭০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটিয়েছে উভয় পক্ষের লোকজন। এতে গুলিবিদ্ধ হয় উভয় পক্ষের ২৫ জনেরও অধিক লোক। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ৩৫ জন।
 
মদিনা বিক্সের মালিক নুরুল আবছারের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলে তিনি বলেন, ঘটনায় গুরুতর আহত শোয়াইব নামের এক ব্যক্তি চমেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর পক্ষ লেদু ও মতিন গ্রুপের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এদিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য অবস্থান করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ওই এলাকায় মতিনের একটি ব্রিক ফিল্ড ছিল। একই এলাকায় মদিনা আবছার নতুন আরেকটি ব্রিক ফিল্ড নির্মাণ করলে দুই গ্র“পের মধ্যে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা দীর্ঘ ধরে চলে আসছে বলে জানা যায়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত পূর্বক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় দিন দুপুরে প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি গুলিবিনিময়ের সময় সাধারণ জনগণের আতংক পড়েছে। ইট ভাটার মালিকগণ প্রকাশ্যে কিভাবে অস্ত্রের মহড়া চালায় এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর। সাধারণ জনগণ অচিরেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়।