পুঁজিবাজারে ব্যাপকভাবে দরপতন হচ্ছে। গত ৭ কর্মদিবস ধরে টানা দরপতন হচ্ছে। টানা ৭ দিনের পতনে ডিএসইর সূচক কমেছে ১৮৮ পয়েন্ট। এর আগেও টানা দরপতনের মধ্যে ছিল দেশের উভয় পুঁজিবাজার। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচকে ধ্বস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ডিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক ছিল ৪ হাজার ৪৪৩ পয়েন্ট। যা আজ পর্যন্ত কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্টে। অর্থাত্ ১৫ কর্মদিবসে ডিএসইর সূচক কমেছে ২৭২ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয় নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশার কারণেই বাজারে দরপতন হচ্ছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী বেশ কিছু ব্যাংককে পুঁজিবাজারের অতিরিক্ত বিনিয়োগ কমিয়ে আনতে হবে। এতে বাজারে বিক্রয় চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তাছাড়া ব্যাংকগুলোকে যে পরিমাণ অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হতে পারে তার চেয়েও বিনিয়োগকারীদের ভয়ই বাজারে বেশি প্রভাব রাখছে। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় না বাড়িয়ে ব্যাংকের এক্সপোজার বা বিনিয়োগের উপাদানের হিসাবায়নে কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কিন্তু বাজারের বিনিয়োগকারীরা তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের দাবি ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়ানোসহ উপাদানের হিসাবায়নে পরিবর্তন আনা। এতে বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। ফলে কিছু ব্যাংক চাইলে বিনিয়োগ করতে পারবে। তাছাড়া ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ না করলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে অব্যাহত দরপতনের ফলে এক বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ডিএসইর মূল্যসূচক।
সোমবার ডিএসইর মূল্যসূচক এখন এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে এর পর সর্বনিম্ন। লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে এমজেএল। এ কোম্পানির ১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিন্ডে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
