খুনের আগে দোকানের সাটারে সতর্কবাণী সেটে দিয়েছিল ঘাতকরা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৬, ০৮:৫৮
‘দুনিয়ার আদালত মুক্তি দিলেও আমাদের আদালতে তোর মুক্তি নেই’ খুন হওয়ার একমাস আগে নিখিল জোয়ারদারের দোকানের সাটারে এমন সতর্কবাণী লেখা কাগজ সেটে দিয়ে যায় ঘাতকরা। ধর্ম অবমাননার মামলায় জামিন এবং আপোষরফার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার হওয়ার পর ঘাতকরা তাকে এমন হুমকি দিয়েছিল। স্থানীয়দের দেয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানা। বিষয়টি নিয়ে নিখিল শঙ্কিত ছিলেন। তিনি নিজের গতিবিধি সীমিত করে ফেলেন।
 
নিখিল ২০১২ সালের ২ মে কথাচ্ছলে মহানবীকে (সঃ) নিয়ে কটুক্তি করায় জামায়াত ও হেফাজতের সমর্থকরা তার বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর শেষে ফাঁসির দাবিতে গোপালপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ডুবাইল বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখিলকে গ্রেফতার করে। থানায় ধর্ম অবমাননার মামলা হয়। বাদী ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের স্থানীয় সংবাদদাতা এবং আলমনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইসলাম মারুফি। ২৯ দিন জেলহাজতে থেকে নিখিল জামিনে বের হয়ে আসেন। কিন্তু নানা হুমকিতে  আবার আত্মগোপনে চলে যান। অবশেষে প্রকাশ্যে অনুতাপ করায় এলাকার বয়স্কদের অনুরোধে বাদী সমঝোতার মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ মামলা প্রত্যাহার করে নেন।
 
গোপালপুর থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। একটির বাদী নিহতের স্ত্রী আরতি জোয়ারদার। আসামি  অজ্ঞাত তিনজন। অপরটির বাদী গোপালপুর থানার এসআই মোকছেদুল আলম। এটি অবৈধ বিস্ফোরকদ্রব্য বহন ও প্রয়োগ সংক্রান্ত মামলা। এদিকে ডিবি পুলিশ খুনের মোটিভ উদঘাটনের জন্য গত শনিবার ও রবিবারে আটক তিনজনকে সোমবার গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়। 
 
এরা হলেন, দৈনিক ইনকিলাবের গোপালপুর সংবাদদাতা এবং আলমনগর নগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম মারুফি, উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাদশা এবং বিএনপি কর্মী বীরনলহরা গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের পুত্র ঝন্টু মিয়া। ডিবির ওসি মাহফিজুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে সোমবার আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
 
এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি চলে যাওয়ায় এমনিতেই দরিদ্র নিখিলের পরিবার আরো অসহায় হয়ে পড়েছে। স্বজন, প্রতিবেশিরা তার স্ত্রী আরতিকে সান্তনা দিলেও তিনি ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত। ময়না তদন্তের পর গত রবিবার গ্রামের শ্মশানে নিখিলের দাহ হয়। ওই দিন নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে আসেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। তিনি নিখিল জোয়ারদারসহ উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত হওয়ার প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার দাবি করেন। রবিবার নিহতের স্ত্রীর হাতে নগদ বিশ হাজার টাকা তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার।
 
উল্লেখ্য গত শনিবার পৌরসভার ডুবাইল মহল্লায় নিজের দর্জি দোকানে বসে পোষাক তৈরির সময় বাইরে ডেকে নিয়ে নিখিল জোয়ারদারকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।