নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ঠিকাদারী কাজ না পেয়ে পিআইও এর (প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা) অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ সময় তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার বিকালে মারধরের শিকার ওই অফিস সহকারী রাতেই মামলা করেছেন। পুলিশ এ অভিযোগে আব্দুল আওয়াল এবং উত্তম নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। দুজনই নিজেদের যুবলীগ নেতা দাবি করেছেন।
পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কলমাকান্দায় পাঁচটি সেতু নির্মাণের জন্য নেত্রকোনা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকাদাররা টেন্ডারপত্র জমা দেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্য লটারিতে নেত্রকোনার চারজন এবং কলমাকান্দার একজন ঠিকাদার কাজ পায়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চন্দন বিশ্বাস ও সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাস ও তার সহযোগিরা কাজ না পাওয়ায় লটারি বাতিল করে তাদেরকে সকল কাজ দেয়ার জন্য দুপুর থেকে পিআইও এর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে কাজ না হলে সোমবার বিকালে অফিস চলাকালীন তারা হামলা চালায় এবং কক্ষ ভাঙচুর করে। এ সময় অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে তারা প্রচণ্ড মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ আওয়াল ও উত্তমকে আটক করে।
পিআইও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যে কোনো সময় তার উপরও হামলা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে সুজন বিশ্বাসের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম জানান, সুজন বিশ্বাসকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
