‘একটা হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার অর্থ আরেকটা হত্যার উসকানি দেয়া। তাই দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। আপনারা যদি এর বিচার করতে না পারেন তাহলে বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর থাকবে না, ৩৬৫ দিনই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে হবে। যাদের হাতে লাঠি, বন্দুক, গুলি ইত্যাদি থাকে, যারা দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করে তাদের কিছু হলে সরকার সহমর্মিতা জানানোসহ অনেক কিছুই করে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান বিতরণ করেন। শিক্ষকরা কি দেশের সম্পদ নয়? শুধু শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই কি সম্পদ?’
গতকাল মঙ্গলবার ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার বিচার দাবিতে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশে অধ্যাপক রেজাউলের মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা, মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোকাদ্দাম হোসেন, রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীরেন্দ্র নাথ মোস্তাফী প্রমুখ।
হত্যার বিচার দাবিতে
মোমবাতি প্রজ্বলন
রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার প্রতিবাদে ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজলা গেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু সঞ্চালনায় সমিতির সাবেক সভাপতি আনন্দ কুমার সাহাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচি থেকে রাবি শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যার বিচার দাবি করা হয়।
