বোরো ধান কাটতে বাইরের জেলায় যাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকরা

আপডেট : ০৪ মে ২০১৬, ০০:২৯
১৬ সদস্যের ধান কাটা শ্রমিকের দলনেতা চটকু (৪৬)। এসেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ভীমপুর থেকে। হাতে কাস্তে, ঘাড়ে ভার বহনের বাঙুয়া। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। দলবেঁধে সবাই জেলার বাইরে যাচ্ছেন আগাম ধান কাটার কাজে।
 
কথা হয় দলনেতা চটকুর সাথে। তিনি জানান, নিজের এলাকায় বোরো ধান কাটতে ১০-১৫ দিন দেরি আছে। বাড়িতে বসে না থেকে ১৬ জনের দল নিয়ে পূর্ব পরিচিত গৃহস্থের বাড়ি সান্তাহারে যাচ্ছি। এর আগেও সেখানে কাজ করেছি। মোবাইলে খবর পেয়ে আগাম ধান কাটার জন্য রওনা হলাম।
 
এই এলাকার প্রায় সকল কৃষি শ্রমিক এনজিও’র ঋণের জালে আটকা পড়েছে। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এনজিও’র কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাদেরকে। তাছাড়া সংসার খরচের টাকা রোজগারের জন্য কাজের সন্ধানে যেতে হয় জেলার বাইরে।  তাছাড়া জেলার সৈয়দপুর, জলঢাকা, ডোমার, কিশোরীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় চলমান কর্মসৃজন কাবিটা প্রকল্পের কাজ শেষ অবস্থায় আছে। এই প্রকল্পের বাইরেও হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক কর্মহীন থাকায় তারা বাধ্য হয়ে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান কাটার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন বাইরের জেলায়।
 
আগাম জাতের ধান কাটার জন্য এসব শ্রমিক ট্রেনে চেপে জয়পুরহাট, সান্তাহার, বগুড়া, আক্কেলপুর, ঈশ্বরদী অথবা বাসে চড়ে যাচ্ছেন কুমিল্ল­া ও অন্যান্য জেলায়। তারা জানান, সেখানে প্রতিবিঘা (৩৩ শতাংশ) জমির ধান কাটা ও বহনে তাদের মিলবে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। এই কৃষি-শ্রমিকদের কেউ কেউ পূর্বে কাজ করেছেন এমন স্থানে যাবেন। যাদের পূর্ব যোগাযোগ নেই স্টেশনে পৌছার পর তাদের বিভিন্ন জমির মালিকরা ডেকে নিয়ে যাবেন। থাকা ও খাওয়া মালিকই বহন করে বলে জানান তারা।
 

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার ধান কাটা শ্রমিক হাফিজার (৩৫), আবুজার (৪৫) ও রাজিউল (৪৩) জানান, আগাম ধান কাটার জন্য তারা জয়পুরহাটে যাচ্ছেন।  গেল বছরও তারা সেখানে গিয়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা বরেন্দ্র, রূপসা, তিতুমীর, খুলনা মেইলে কাজের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছেন বাইরের জেলায়। পেছনে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানের মায়া ত্যাগ করে অর্থ উপার্জনের আশায় তাদের এই পথচলা। বাড়ির ভালোমন্দ খবর নেয়ার জন্য সঙ্গে রয়েছে কমদামি মোবাইল ফোনসেট।