সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নামে হ্যাকাররা যেভাবে তথ্য হাতিয়ে নেয়

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২০:২৮

মাহবুব শরীফ

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন অনেকেই। কম্পিউটার সিস্টেমে হ্যাক করার জন্য প্রথমে হ্যাকাররা ওই সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া ত্রুটি ব্যবহার করেই হ্যাকিংয়ের কাজটি করে থাকে। ঠিক তেমনই, সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যাকাররাও আপনার দুর্বলতাকে শনাক্ত করার কাজটি করে থাকে।  আপনার মানসিক বিচরণকে ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য আয়ত্ত করে সেগুলোকে সময়মতো ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তারা।  এ কাজের জন্য আপনার ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, এর পাসওয়ার্ড, সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ডসহ নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর এক্সেসও নিয়ে থাকে হ্যাকাররা। যাইহোক, কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে হ্যাকারদের হাত থেকে আপনি বেঁচে যেতে পারেন।  কোন বিষয়গুলোতে আপনার সতর্ক থাকা প্রয়োজন সে সম্পর্কে জেনে নিন—

 

টেক সাপোর্ট কল

টেক সাপোর্টের নামে প্রতারণা ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময় আপনাকে কল করে বলতে পারে যে সে আপনাকে প্রযুক্তিগতভাবে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য কল করেছেন। এমনও হতে পারে, আপনাকে কল করে বলবে যে, আপনি যে সিস্টেমটি ব্যবহার করছেন ওটিতে প্রচুর ভাইরাস রয়েছে। এ কারণে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো থেকে রেহাই পেতে হলে আপনার টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন রয়েছে যা তারা দিতে প্রস্তুত। এমন প্রস্তাবে অনেকেই রাজি হয়ে যায়। একটি বিষয় মনে রাখা ভালো আর তা হলো, আসলেই যারা এই ধরনের টেক সাপোর্ট দিয়ে থাকে তাদের কাছে দৈনিক যে পরিমাণ কল আসে তার পর আপনার কাছে উল্টো কল করার মতো সময় তাদের মোটেই নেই। যাইহোক, এই ধরনের প্রতারকরা আপনার সিস্টেম ও অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে নিতে পারে এবং এন্টিভাইরাস ইনস্টল করার নামে তারা আপনার কম্পিউটারে সমস্ত এক্সেস নিয়ে নিতে পারে। আপনাকে এমন একটি লিংক দেবে যাতে ক্লিক করলে তাদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন আপনি। হয়ত আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, কখন আপনি এই সাইটে প্রবেশ করেছেন। আপনি টের না পেলেও আপনার কম্পিউটারের সরাসরি এক্সেস চলে যাবে অন্যের হাতে।

এই ধরনের প্রস্তাবে কখনো কান দিবেন না। অনলাইনে টেক সাপোর্ট স্ক্যামিংয়ের নামে বর্তমানে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

 

অনির্ধারিত পরিদর্শন

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের সাজে অনেক সময় হ্যাকাররা হুট-হাট আপনার অফিস পরিদর্শন করতে পারে। অনেক সময় আইটি ইন্সপেক্টার সেজেও আসে তারা। তাদের হাতে অনেক কাগজপত্রসহ ক্লিপবোর্ড থাকতে পারে এবং তারা দাবি করবে যে, কোম্পানির সার্ভার ফিক্স করতে চলে এসেছে তারা।  খেয়াল করলে দেখবেন যে, কোথাও তার নাম নেই। যদি বলা হয় তার নাম কেন লেখা নেই,  সেক্ষেত্রে বিভিন্ন  অজুহাত দিয়ে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রেস্ট্রিক্টেড এরিয়াতে প্রবেশ করা এবং কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার, কী-লগার ইন্সটল করিয়ে দেওয়া। যদি তাদের আচরণে আপনার সন্দেহ হয়ে থাকে তাহলে আপনি যে প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করছেন ও আপনার অফিসের ম্যানেজমেন্টকে জানাতে ভুল করবেন না।  এ রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, একজন মাত্র লোক এসে সে নিজেকে আইটি ইন্সপেক্টার দাবি করেছে। পরবর্তীতে খবর নিয়ে জানা গেছে,  ওই লোকটি প্রতারক ছিল।

 

‘হেল্প মি’ থেকে সাবধান

অনেক সময় বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার নামে তথ্য হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত তারা যেন তাদের অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া যেন তারা বাইরের কারো কাছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য না দেয়।  এমন একটি ঘটনা নিয়ে সিনেমাও তৈরি হয়েছে। ওই সিনেমায় দেখা গিয়েছে, কীভাবে একজন মহিলা একটি ব্যাংকের কম্পিউটারে রিমোট অ্যাক্সেস টুল ইনস্টল করে দিয়েছে। ঐদিন ব্যাংকে এই জব ইন্টারভিউ চলছিল। এক সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার মহিলা তার সিভিতে ইচ্ছা করে কফি ফেলে দেয়, তারপরে এমন টাইমে রিসিপ্শনে আসে যাতে আর সিভি আলাদা কোনো জায়গা থেকে প্রিন্ট করার সময় না থাকে। তারপরে রিসিপ্শনে থাকা এক কর্মচারীকে বলে প্লিজ হেল্প, ‘আমার হাতে একটু ও সময় নেই আর সিভিটা নষ্ট হয়ে গেছে। এই যে নিন আমার পেনড্রাইভ, প্লিজ এটা থেকে আমার সিভিটা প্রিন্ট করে দিন।’

রিসিপশনিস্ট যখনই পেনড্রাইভটি কম্পিউটারে প্রবেশ করালো সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক নেটওয়ার্ক আক্রান্ত হয়ে গেল। একজন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাওয়া বুঝতে পারাটা অনেক কষ্টের ব্যাপার। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখলে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, আর তখনই আপনার যা করণীয় তা করবেন।

 

জরুরির নামে তথ্য আদায়

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়াররা বা স্ক্যামারা আপনার কাছে এসে অনেক তাড়াহুড়া করে এমন ভাব দেখাবে যে সে অনেক ব্যস্ত। তার হাতে অনেক কাজ পড়ে রয়েছে। অথবা আপনাকে ফোন করে বলবে যে, আপনার ক্রেডিট কার্ড রিনিউ করার সময় চলে যাচ্ছে। আর মাত্র কয়েক মিনিট সময় রয়েছে, এর মধ্যে রিনিউ করতে না পারলে আপনার কার্ড এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তাই, দ্রুত আপনার রিঅ্যাক্ট দিতে বলা হতে পারে।

যখনই কেউ কল করে বা আপনার অফিসে এসে তাড়াহুড়া লাগাবে, আপনি কখনোই দ্রুত রিঅ্যাক্ট করবেন না। তারা জানে, যখনই তারা তাড়াহুড়া করবে তখনই আপনি খুব বেশি না ভেবেই তাদের প্রতি রিঅ্যাাক্ট করে ফেলবেন। কেউ কোনো গল্প শুনিয়ে তাড়াহুড়া করলে আপনি শান্ত থাকবেন এবং বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর তাকে আসতে বলবেন। ফোনে কেউ ক্রেডিট কার্ডের তথ্য জানতে চাইলে কখনোই শেয়ার করবেন না।

ছবি :সংগৃহীত