২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে পুঁজিবাজারের জন্য ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে : ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর অবকাশ সুবিধা প্রদান, সিকিউরিটিজ লেনদেনে উৎসে কর হ্রাস, করমুক্ত লভ্যাংশের পরিমাণ বাড়ানো এবং স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি অব্যাহতিসহ আরও দুটি।
রবিবার ডিএসই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব দেন ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, রুহুল আমীন, এফসিএমএ ও ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটওয়ারী, এফসিএমএ।
এদিকে নৈতিক কারণে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের বিপক্ষে ডিএসই। তাই ডিএসই’র প্রস্তাবনায় কালো টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে কোন কিছু বলা হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারি বলেন, আমরা এ সুযোগকে নৈতিকভাবে পছন্দ করি না। তাই এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি।
ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থেকে থাকলে, তা শেয়ারবাজারের জন্যও আছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে বাধা নেই। তবে স্টক এক্সচেঞ্জে অফিসিয়ালি এর অনুমোদন নেই।
ডিএসইর প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে মো. ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশে এবং ডিএসই’র উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছর মেয়াদী ক্রমহ্রাসমান হারে যে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে, তাতে দ্বিতীয় বৎসর ৮০ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা ছিল। তার সঙ্গে আরও ২০ শতাংশসহ শতভাগ কর রেয়াত সুবিধা দেয়া ইতিবাচক। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছর হতে স্টক এক্সচেঞ্জকে কর দিতে হবে। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কীমের আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জের যে সংস্কার চলছে তা চলমান রাখতে এবং পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে ক্রম-হ্রাসমান হারের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেয়া প্রয়োজন।
শেয়ারবাজারের সুবিধার্থে নিবাসী এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের কর কর্তন ৮২সি ধারার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান ডিএসই’র চেয়ারম্যান। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক-হোল্ডার কর্তৃক সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর (ধারা ৫৩বিবিবি) উৎসে কর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য করমুক্ত লভ্যাংশের পরিমাণ ২৫ হাজার টাকার পরিবর্তে তা বাড়িয়ে ১ এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কিছুটা লাভবান হতে পারবেন। এতে শেয়ারবাজারের দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়বে।
এছাড়া ডিএসইর চেয়ারম্যান স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজড শেয়ার হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ এর সেকশন ২ এর সাবসেকশন (৩৫) এর অধীনে আয়বর্ষের সংজ্ঞা পরিবর্তন করার দাবি জানান।
