ইত্তেফাক ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র আইন কঠোর হচ্ছে। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। হামলার পর তিন দিন কেটে গেলেও নিহতদের দাফন না করায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। এদিকে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি টারান্ট তার আইনজীবীকে বরখাস্ত করেছে। সে নিজেই আদালতে লড়াই করবে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এরপরই অস্ত্র আইন কঠোর করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও ডেইলি মেইলের
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, হামলার ঘটনার পর মন্ত্রিসভা দেশের অস্ত্র আইন সংস্কারে ‘নীতিগত’ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আর্ডেন আশা প্রকাশ করেন, অস্ত্র আইন সংস্কারের বিস্তারিত ২৫ মার্চের মধ্যে প্রকাশ করতে পারবেন তিনি। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ঐ সন্ত্রাসবাদী ঘটনার ১০ দিনের মধ্যে আমরা আমাদের অস্ত্র আইন পরিবর্তনের ঘোষণা করবো যা নিউজিল্যান্ডের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। আর্ডেন জানান, ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকান্ডের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ব্রেন্টন টারান্টকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে। আইনজীবী রিচার্ড পিটার্স জানিয়েছেন, তার মক্কেল টারান্ট নিজেই আদালতে লড়াই করবে বলে জানিয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে, মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দিয়ে টারান্ট হত্যাকান্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করবে। সে নিজেকে প্রচার করবে। হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হলে টারান্টের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে। তাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাবসনেরও পরিকল্পনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন।
হামলায় আহত ৯ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। হতাহতদের স্মরণে গত কয়েকদিন নিউজিল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন রকম আয়োজন হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এরই মধ্যে সেমি-অটোম্যাটিক অস্ত্রের বৈধতা বাতিলের দাবি তুলেছে বলে রেডিও নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে। এর আগে অস্ত্র আইনে কড়াকড়ি আরোপ করার চেষ্টা করা হলেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীদের শক্ত অবস্থান এবং এবং নিউজিল্যান্ডে শিকার করার সংস্কৃতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র আইন
অস্ত্রের মালিকানা পাওয়ার আইনত বৈধ বয়স ১৬। মিলিটারি স্টাইল সেমি-অটোম্যাটিক বন্দুকের মালিকানার জন্য বৈধ বয়স ১৮। নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১৫ লাখ ব্যক্তি মালিকানাধীন আগ্নেয়াস্ত্র আছে। সব অস্ত্রের মালিকের লাইসেন্স প্রয়োজন হলেও প্রতিটি অস্ত্রই যে নিবন্ধনকৃত হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যক্তির অতীত কার্যকলাপ এবং স্বাস্থ্য যাচাই করতে হবে। একবার লাইসেন্স পাওয়ার পর অস্ত্রের মালিক ইচ্ছামতো অস্ত্র কিনতে পারেন।
দাফনে বিলম্ব
হামলার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নিহতদের দাফনে বিলম্ব ঘটছে। ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাফন করার কথা থাকলেও ময়নাতদন্ত ও পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে গতকাল শোক বই খোলা হয়েছে। এতে প্রথম স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন।
