ডা. রাজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২৩:২৩

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে চিকিত্সকরা একথা জানিয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত করে কারণ বলা যাবে। মৃতদেহে কোনো প্রকার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে গতকাল সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাজনের লাশ দেখতে যান তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিকিত্সকরা জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে রাজনের মৃতদেহ তার কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নেওয়া হয়। তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দুপুরে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরে নিয়ে যান স্বজনরা।

গত রবিবার ভোর পৌনে ৪টায় পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ডা. রাজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা রহস্য। তার চিকিত্সক সহকর্মী এবং স্বজনদের অভিযোগ তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। ডা. রাজন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মেয়ে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের স্বামী। কৃষ্ণাও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের সহকারী অধ্যাপক। তাদের বাসা ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোডে। তবে জানুয়ারি মাস থেকে তারা সেখানে থাকতেন না। মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ন্যাম ভবনে থাকতেন তারা।

ইন্দিরা রোডের ৪৭ নম্বর বাড়িটির নিরাপত্তা কর্মী বাদশা মিয়া জানান, ৩/সি ফ্ল্যাটে চিকিত্সক দম্পতি ভাড়া থাকতেন। তবে মার্চের শেষে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। জানুয়ারি থেকে তারা বাসায় থাকেন না। ডা. রাজন মাঝে মধ্যে বাসায় আসতেন, তবে রাত কাটাতেন না। ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে যেতেন। গত শনিবার রাত ১টার দিকে রাজন বাসায় আসেন। দেড়টার দিকে নিচে নেমে যান। ১৫-২০ মিনিট পর আবার তিনি বাসায় ওঠেন। রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা গাড়িতে করে ওই বাসায় আসেন। গাড়ির ড্রাইভার নিচে অবস্থান করছিলেন। আধাঘণ্টা পর কৃষ্ণা ড্রাইভারকে বাসায় ডাকেন। এরপরই ড্রাইভার চিত্কার করে লিফট চালু করতে বলেন নিরাপত্তাকর্মীকে। অচেতন অবস্থায় ডা. রাজনকে গাড়িতে করে তারা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিত্সকরা বলছেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাজনের মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের চিকিত্সক সহকর্মী ও স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। তারা অভিযোগ তোলেন রাজনের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনের মামা সুজন কর্মকার রবিবার শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, রাজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি বলেই তাদের মনে হচ্ছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, ‘আমরা তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ এদিকে ডা. রাজন কর্মকারের মৃতদেহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের বি ব্লকের শহীদ ডা. মিলন হলে আনা হয়। রাজনের মরদেহে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। রাজনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।