টঙ্গীবাড়ীতে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করে বিপাকে নারী

আপডেট : ২০ মে ২০১৬, ২২:১৫
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার চিত্রকড়া গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসীর ৪ সন্তানের জননী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করে বিপাকে পড়েছেন।
 
এলাকার কতিপয় গ্রাম্য মাতবর ধর্ষকের কাছ হতে টাকা খেয়ে ওই নারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে বলে গৃহবধূ (২৬) মুঠো ফোনে স্থানীয় প্রতিনিধিকে জানিয়েছে। এর আগে ওই বিচার নিয়ে তালবাহানা শুরু করে এলাকার গ্রাম্য মাতবরেরা। পরে গৃহবধূ বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭ জনকে আসামী করে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশত্তর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী গত রবিবার রাতে তার বাবার বাড়ি চিত্রকড়া গ্রামের বসতঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি দল গৃহবধূর ঘুমানোর ঘরের পাটখড়ির বেড়া খুলে ভিতরে ঢুকে মুখে উড়না বেধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
 
নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, 'ধর্ষক হাসাইল গ্রামের কাসেম মল্লিকের ছেলে বধুউজ্জামান র্দীর্ঘ একবছর যাবৎ আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলো। তার জন্য আমি ঠিকমত বাড়ি থেকে বের হতে পারতাম না। বের হলেই আমার পিছু নিয়ে বিভিন্ন রকম কু-প্রস্তাব দিতো। সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে গত রবিবার রাত ১টার দিকে সেসহ চিত্রকড়া গ্রামের তফি খানের ছেলে ফরুক খান (২৭), আলী হোসেন শেখের ছেলে আলফাজ শেখ (২৬) আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে ও আমার ৪ সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
 
এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, এ ঘটনায় টঙ্গীবাড়ী ওই গৃহবধূ একটি অভিযোগ করলে পুলিশ একটি ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করেছে। এতে একজনকে আসামী করা হয়েছে। ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, 'শুক্র ও শনিবার হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ডাক্তার থাকে না, তাই রবিবার গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।' খবর- বাসস।