জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে বরগুনার কমপক্ষে ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে এ সব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। রবি শস্যের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে কৃষকরা। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। গবাদি পশুর খাদ্যের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বেরিবাঁধের বাইরে ও চরাঞ্চলে বসবাসরত পরিবারগুলোর চাল-চুলা ভেসে যাওয়ায় রান্না খাওয়াও বন্ধ প্রায়।
বরগুনা পাউবো এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জোয়ারের চাপে বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা, সোনাতলা, ছোটবালীয়াতলী, ডালভাংগায়, তালতলী উপজেলার আরপাঙ্গাসিয়া তেতুলবাড়িয়া ও পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়ায় এলাকার ভেরীবাধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব পয়েন্টের প্রায় দুই কিলোমিটার বেরিবাধ বিলীন হয়ে গেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে বিষখালী, বুড়িশ্বর ও বলেশ্বর নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে বরগুনার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ কমপক্ষে ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে-বরগুনা সদর উপজেলার মাঝের চর, ডেমা, গুলিশাখালী, মানিকখালী, লবনগোলা, নাপিতখালী, পূর্ব বুড়িরচর, ছোনবুনিয়া, লতাকাটা, বাইনসমের্ত, ছোট তালতলী, পালের বালিয়াতলী, বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া, বেতমোড়, উত্তর বেতাগী, কেওয়াবুনিয়া, ঝোপখালী, ছোট বেতাগী, আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা, কুলুর চর, পূর্ব চিলা, পশ্চিম চিলা, উত্তর তক্তাবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, আঙ্গারপাড়া, শাখারিয়া, নাঙ্গলকাটা, তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা, নিন্দ্রা, লাউপাড়া, তালুকদার পাড়া, সওদাগার পাড়া, আমখোলা ও পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা, টেংরা, জিনতলা, চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়া, কালমেঘা ও কাকচিড়া। এসব এলাকার বাড়ি-ঘরে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে কৃষি জমি ও মাছের ঘের। এছাড়াও ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। অনেক সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় বিঘিœত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। ঝড়-বৃষ্টির কারণে শুক্রবার থেকে বিদ্যুৎ নেই জেলার কোন এলাকায়।
