থানছির দুর্গম অঞ্চলে খাদ্য সংকটে পাহাড়িরা

আপডেট : ২৬ মে ২০১৬, ০০:৪৪
জেলার থানছি উপজেলার দুর্গমাঞ্চলের গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকটে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়িরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জুমের ফসল ঘরে তুলতে না পারায় এ বছরের মার্চ মাস থেকে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে গ্রামগুলোতে। খাদ্য সংকটের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনকে জানালে জরুরিভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত গ্রামগুলোর ৮শ’ পরিবারের জন্য ১৬ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দকৃত খাদ্য চাহিদার তুলনায় খুবই কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয়দের দাবি,  জেলার থানছি উপজেলার রেমাক্রী এবং তীন্দু ইউনিয়নের দুর্গমাঞ্চলে যোগী চন্দ্র পাড়া, বড়মদক ভিতরপাড়া, হৈয়োক খুমী পাড়াসহ আশেপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন দুটির প্রায় আড়াই হাজার মানুষ চরমভাবে খাদ্য সংকটে ভুগছেন। এ গ্রামগুলোতে বসবাসরত পাহাড়িদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে জুম চাষ। জুম চাষের মাধ্যমেই তারা সারা বছরের ধানসহ অন্যান্য ফসল সংগ্রহ করে রেখে আদিকাল থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জুমের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি পাহাড়িরা। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহাড়িদের প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে ক্ষুধার ছাপ। অনেক পরিবার আছে যারা দু’বেলাই ভাতের দেখা পান না। অনেকে আবার একবেলা ভাত, অন্যবেলা আলু বা মিষ্টি কুমড়া খেয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। এলাকাগুলোর অধিকাংশ মানুষই পাহাড়ি আলু,  ফল-মূল খেয়ে বেঁচে আছেন।
 
হৈয়োক খুমী পাড়া কারকারী (গ্রাম প্রধান) হৈয়ুক খুমি বলেন, তার পাড়ায় বসবাসরত ২৭টি পরিবারের মধ্যে কারো ঘরে একমুঠো খাবারের চাল নেই। প্রতিটি পরিবারই চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। চালের অভাবে পাহাড়ের আলু, লতা-পাতা খেয়ে জীবন যাপন করছে পাহাড়িরা। এ অঞ্চলের পাহাড়িদের জীবন বাঁচাতে সরকারের কাছে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ করার দাবি জানাচ্ছি। যোগীচন্দ্র পাড়ার বাসিন্দা হাতিরাম ত্রিপুরা বলেন, খাবার মজুদ না থাকায় পরিবারের ছয়জন সদস্য তিনদিন ধরে না খেয়ে ছিলেন। চতুর্থদিনে বিজিবির নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পে কাজ করে ১০ কেজি চাল পেয়েছেন। সেগুলো দিয়ে কয়েকদিন ধরে পরিবারের খাবার চলছে। শেষ হলে আবার কি খাবো, সেটি জানি না। রেমাক্রী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা রনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নে ৯৫ শতাংশ মানুষই জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। গতবছর জুম ধান ভাল না হওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবার। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় বাগানের ফল গাছেই পচে নষ্ট হয়।
 
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, থানছি উপজেলার দুর্গত এলাকাগুলোতে ১৬ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে ৮শ’ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। নদীতে পানি না থাকায় খাদ্য পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি স্বাভাবিক হওয়ায় খাদ্য সংকটের গ্রামগুলোতে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য রয়েছে। যেহেতু এই খাদ্য সংকট অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে, তাই বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। যাতে ভিজিএফের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা যায়।