রোয়ানুর প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে ৫০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

আপডেট : ২৬ মে ২০১৬, ০০:৪৬
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২কোটি টাকার ফসল ও গাছের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩শ’ হেক্টর আউশ ধান ও ২শ’ হেক্টর সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে দু’একদিনের মধ্যে ফসলের মাঠে জমা পানি না নামলে আউশ ধানে পচন ধরবে। এতে চলতি মৌসুমে আউশ ধান উত্পাদন ব্যাহত হতে পারে।
 
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরে ঝড়ে ৩ শতাধিক ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে পড়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধের দু’পাশের ৩শ’ গাছ রয়েছে। এছাড়া ঝড়ের সময় সদর উপজেলার কসবা গ্রামে গাছ চাপা পড়ে আনোয়ার উল্যা(৫০) নামে এক চা দোকানী নিহত হয়েছেন।
 
স্থানীয়রা জানান, শনিবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে রামগতির চর আলগী, চর আব্দুল্লাহ, চর গাজী, চর গজারিয়া ও মৌলভীর চর, কমলনগরের চর কালকিনি, চর ফলকন, সদরের চর রমনী মোহন ও রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার বিকেলে অধিকাংশ গ্রামের পানি নেমে গেছে বলে জানান তারা।
 

রামগতির চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নে প্রায় ২৬ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এখানে কোনো সাইক্লোন সেল্টার নেই। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে কিছু অস্থায়ী ঘর ভেসে গেছে। ঝড়-তুফান হলে এখানে আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, রায়পুরের চরাঞ্চলে আউশ ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জ ও টুমচরসহ কয়েকটি এলাকায় সবজিরও ক্ষতি হয়েছে।