স্বাধীনতা দিবস

কী ভাবছে তরুণরা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪৫

দেশের প্রতি সামান্য পরিমাণ ভালোবাসাটুকুও আমাদের অনেকের মধ্যে কাজ করে না। এটা বড়ই কষ্টের, লজ্জার ব্যাপার। অর্জিত স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও সত্যিকারের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্রশ্ন এখনো প্রাসঙ্গিক। সেই প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কি ভাবছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। জানাচ্ছেন— রুমান হাফিজ

প্রকৃত সুখ আস্বাদন সবার অধিকার     

—বহ্নিশিখা রায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

 

পাকবাহিনীর একচেটিয়া শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই বাঙালিরা সোচ্চার ছিলো। কিন্তু ওরা আরো বেশি কঠোর হয়। যা বীর ছেলেরা মেনে নিতে পারেনি। যাদের শরীরে সালাম, রফিক আর বরকতের মতো সোনার ছেলেদের রক্তের স্রোত বহমান, তারা কিভাবে অন্যায়, অবিচার মেনে নিতে পারে? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালোরাত্রির পর থেকে আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি কেউ। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র এককথায় দেশের আপামর জনগণ নিজেদের যা আছে তা নিয়ে প্রতিরোধ, প্রতিহত করতে শুরু করে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি। স্বাধীনতার প্রকৃত সুখ তখনই পরিলক্ষিত হবে যখন দেশের সর্বত্র ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না।

 

ইতিহাসের সঠিক লালন দরকার   

—গোপাল রায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই বাংলার আকাশ আমাদের হূদয়! এই বাংলার বাতাস আমাদের নিশ্বাস! এই বাংলার সূর্যের আলো আমাদের চোখের জ্যোতি! এই বাংলার মাটি আমাদের জন্মভূমি! এজন্যেই বীর বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে দেশ-মাতৃকাকে রক্ষা করতে। ঢেলে দেয় বুকের তাজা রক্ত! ছিনিয়ে আনে অমলিন বিজয় লাল সবুজের পতাকা। এত প্রাণ, এত রক্ত, এত ত্যাগের পর যখন স্বাধীন হলো বাংলাদেশ, তবুও মাঝে মাঝে অবাক হই অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে চান না! মুক্তিযুদ্ধের কথা এলে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয়, অন্য  বিষয়ে যেতে বলে। যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অপমান! এর শেষ কবে হবে? তারুণ্যের কাছে ইতিহাসের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হোক, কোনোরকম বিকৃতি চাই না।

 

স্বাধীনতা নারীর অধিকার 

—নুসরাত জাহান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু পুরোপুরিভাবে স্বাধীন নয় বাংলার নারী সমাজ। ক্রমাগতভাবে নানা বঞ্চনার শিকার  হয়ে চলছে তারা। নির্দিষ্ট  একটা গণ্ডির মধ্যে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা আজও রয়েছে এই দেশে। নারী নিজের মত প্রকাশে, চলাফেরা, নিজের যোগ্যতা প্রকাশে, নিজ সিদ্ধান্ত  গ্রহণে আজও স্বাধীন নয়। একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের স্রোতে বিশ্ববাসী যখন নিজেদের প্রমাণ করছে নানাভাবে, তখনো আমরা আমাদের নারীদের প্রতি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হইনি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই এই স্বাধীনতার মাসে আশাকরি নারীর স্বাধীনতা সঠিকভাবে নিশ্চিত হবে, স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিজ যোগ্যতাবলে নিরাপত্তার সঙ্গে স্বাধীনভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।