বেসরকারি হাসপাতালে ন্যূনতম চার্জ নির্ধারণ করা হবে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ মে ২০১৬, ০১:৩১
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের আরো উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তারা একত্রে কাজ করলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, লক্ষ রাখতে হবে সেবা নিতে গিয়ে রোগীরা যাতে সর্বস্বান্ত না হয়। যে পরীক্ষা করতে ১শ টাকা খরচ হয়, সেখানে ৫শ টাকা নেবেন কেন? তাই বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা আইনের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
 
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জিএমই গ্রুপের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে স্বাস্থ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়ন আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত ভূমিকার বিকল্প নেই।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের জীবন রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন চিকিত্সকরা। তাদের কারাদণ্ডের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমি বিশ্বাস করি জেনেশুনে কোনো ডাক্তার ভুল করতে পারেন না। তারপরও চিকিত্সকরা দায়িত্বে অবহেলা করলে জরিমানা কিংবা ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করার বিধান থাকবে। তিনি আরো বলেন, ডাক্তারদের মধ্যে কিছু কসাই আছেন, তারা ক্লিনিক খুলে মানুষকে নাজেহাল করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ভুয়া ক্লিনিকও রয়েছে। আর তাই এ ব্যাপারে আইন করা হচ্ছে।
 
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের সফলতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাপ্রসূত হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান ও চিকিত্সা প্রদান করা হচ্ছে। ১০০টি দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চিকিত্সকরা পারেন। মাগুরার গুলিবিদ্ধ শিশুকে এদেশের চিকিত্সকরাই বাঁচিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় এক ‘বৃক্ষমানব’ মারা গেলেও বাংলাদেশে ‘বৃক্ষমানব’ সুস্থ আছেন।
 
অনুষ্ঠানে সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে ৫ হাজার মেমোগ্রাফি ফিল্ম ও হূদরোগীদের জন্য ১০টি স্ট্যান্ট তুলে দেওয়া হয়। এগুলো গরিব রোগীদের সেবায় ব্যবহূত হবে। জিএমই গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারহানা মোনেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মোনেম, পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
প্রসঙ্গত স্বাস্থ্যমেলায় স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তির সঙ্গে গ্রাহক ও হাসপাতাল মালিকদের পরিচিত করাতে ফুজিফিল্ম, সিমাদজু, বোস্টেও সাইন্টিফিক ও নিওসফটসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত কোম্পানির বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
 
এদিকে সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ান অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।