আড়াই শ’ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে তথ্যপ্রযুক্তির বৃহত্তম প্রদর্শনী শুরু

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২০:৫১

 

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইনফো সরকার থ্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং প্রকল্প  গ্রহণ করেছে সরকার। যার মাধ্যমে ৬ লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে তোলা হবে। এরাসহ দেশের বর্তমানে ১০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করছে যা ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখে গিয়ে পৌঁছাবে। গতকাল আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) শুরু হওয়া দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসব কথা বলেন।

টেকনোলজি ফর প্রসপারিটি স্লোগান নিয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘১৫তম বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯’। তিন দিনব্যাপী বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯ চলবে আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত।

সফটএক্সপো ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব। এ সময় সফটএক্সপো ২০১৯ সম্পর্কে সূচনা বক্তব্য রাখেন  বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯- এর আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ. রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাপস, ড্রোনের মতো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে আমরাও  বিশ্বমানের মেলা আয়োজনে সক্ষম হচ্ছি। এটি একটি ইতিবাচক সংযোজন।’  দেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান অবস্থান বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি এবং দেশের ৯৫ শতাংশ ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে গেছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে আন্তরিক। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইনফো সরকার থ্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং প্রকল্প  গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে ৬ লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে তোলা হবে। এরাসহ দেশের বর্তমানে ১০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করছে যা ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখে পৌঁছাবে।’

দেশের সফটওয়ার খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পলক আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি কাজে দেশীয় সফটওয়ার প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার দেশীয় সকল প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করতে বলব। প্রয়োজনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করবে।’ এ ছাড়াও দেশীয় সফটওয়ার প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা বাড়াতে এবং এর ব্যবহার করতে দেশীয় টেলিকম খাত ও ব্যাংকিং খাতকে অনুরোধ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব বলেন, ‘অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের আয়োজনটি বেশ বড় এবং চমকপ্রদ। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনে এই আয়োজন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমন একটি আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

সভাপতির বক্তব্যে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘এবারের বেসিস সফটএক্সপো সফটওয়্যার এবং আইটি এস সেবা প্রদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার দিক হতে এই আয়োজন শুধু বাংলাদেশে নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় আয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের এই আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ এটা প্রমাণ করে যে, এই শিল্প খাতের অবস্থান আশাব্যঞ্জক এবং সম্ভাবনাময়।

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯ এর আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান তাঁর বক্তব্যে বেসিস সফটএক্সপোর সামগ্রিক আয়োজন সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, এবার ১০টি পৃথক জোনে ২৫০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। থাকছে ৩০টির মতো সেমিনার, বিজনেস লিডারশিপ মিট, আইটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, গেমিং ফেস্ট ইত্যাদি। এছাড়াও জাপানের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণে ১০টি জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটুবি এবং ৩টি সেমিনার ছাড়াও এক্সপোর ২য় দিনকে জাপান দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুইডেন ও নেদারল্যান্ডের সঙ্গেও বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বেসিস সফটএক্সপো আয়োজনে সহযোগী সকল প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।