ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নে ভোট দিতে ভোটারদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। নৌকায় ভোট দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্যাডাররা।
এই ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নেই। নৌকায় ভোট পড়লে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ এবং হাত-পা ভেঙে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন একদল যুবক। শুধু তাই নয়, নারী ভোটারদের ধর্ষণেরও হুমকি পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নয়। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যিনি রাজাকারপুত্র। আবাইপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোকতার আহমেদ মৃধা। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হেলাল উদ্দীন লড়ছেন আনারস প্রতীকে।
শনিবার ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই প্রকাশ্যে আনারস প্রতীকে জাল ভোট দিচ্ছে পুলিশ ও হেলাল উদ্দীনের ক্যাডাররা। হাটফাজিলপুর গ্রামের ভোটার আফজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নৌকায় ভোট দিলে হাত-পা ভেঙে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়েছে। নৌকার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন না। ভোটকেন্দ্রের মোড়ে মোড়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্যাডাররা।
রাহেলা খাতুন নামে এক নারী ভোটার বলেন, আনারস মার্কায় সিল মারা ব্যালট দেয়া হয়েছে তাকে। এর প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাকে কিল-ঘুষি লাথি মেরেছে।
নৌকা মার্কার প্রার্থী মোকতার আহমেদ মৃধা বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। পুলিশ ভোটারদের বের করে দিয়ে নিজেরাই ব্যালটে সিল মারছে। তাই তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, এ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আবদুল হাই তার পছন্দের প্রার্থী আনারস মার্কার হেলাল উদ্দীনকে বিজয়ী করতে মরিয়া। শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা ডুবাচ্ছেন এমপি নিজ হাতে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ইউনিয়নের ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। রবিউল ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এ এক আজব নির্বাচন। নৌকার ভোট দিলে আওয়ামী লীগ আমলে নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়। যা বলতে আমাদের লজ্জা করে। ’
আবদুল কুদ্দুস নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত না, এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর হুমকিতে আমরা দিশেহারা।’
