নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনে কমে যাচ্ছে জামগাছ

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৬, ০১:১৯
গ্রাম-গঞ্জের বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে উপজেলার প্রায় সর্বত্রই এক সময় প্রচুর জাম গাছ চোখে পড়তো। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে ঘিওর উপজেলার পথেঘাটে, হাটবাজারে ও সড়কের পাশে জাম গাছ এখন তেমন দেখা যায় না। গ্রীষ্মকালীন এই জাম এখন হারিয়ে গেছে দামি ফলের দাপটে। তাই মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ওষুধি গুণসম্পন্ন পাকা জাম এখন আর তেমন দেখা যায় না।
 
ঘিওরের শ্রীবাড়ি এলাকার পাইকারি জাম ব্যবসায়ী মোঃ আরিফ হোসেন জানান, জেলার বিভিন্ন হাটবাজার কিংবা বসতবাড়ি থেকে জাম কিনে তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল আড়তে বিক্রি করেন। খরচ বাদে কেজি প্রতি ১০/২০ টাকা লাভ হয়। তবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি জাম গড়ে ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে জাম গাছে ফুল ধরে এবং মে-জুন মাসে ফল পাকে। তবে আজকাল হাইব্রিড জাতের জাম বেশ বড় এবং দেখতেও নজরকাড়া।
 
আমাদের দেশে প্রধানত দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। জাত দুটি হলো ক্ষুদি জাত-খুব ছোট এবং কালোজাম বা মহিষে জাত-বেশ বড় ও মিষ্টি। জাম গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত হয়। ভালো মানের আসবাব ও ঘরের জানালা-দরজা তৈরিতে জাম কাঠের কদর বেশি।
 
ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ উজ্জামান জানান, জাম একটি পরিচিত ফলদ বৃক্ষ। জামের রয়েছে নানা ওষুধি গুণ। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক হারে জাম গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ভালো জাতের বীজ নির্দিষ্ট স্থানে রোপণ করে বা এক বছর বয়সের চারা রোপণ করে জামের আবাদ করা যায়।
 

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল করিম বলেন, জাম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী ফল। মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য জাম অনেক উপকারী। কারণ জাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও গর্ভবতী মা, শিশুদের জন্যও এই ফল ভীষণ উপাদেয়। জামের ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তিকে করে শক্তিশালী।