মাদক ছিল তার একমাত্র প্রধান ব্যবসা। এজন্য জেলহাজতেও যেতে হয়েছে এনায়েতপুর থানার খোকশাবাড়ি গ্রামের ইখতিয়ার সরকারকে। কিন্তু মাদক ব্যবসা জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি এখন ফলের ব্যবসা করছেন। তার এমন আদর্শের পথে ফিরে আসা অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় অর্থাভাবে ইখতিয়ার সরকার লেখাপড়া এগোয়নি। ২০০৫ সালের দিকে হঠাত্ সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এজন্য বাবা ও ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনরা তাকে দেখতো বাঁকা চোখে। দু’বছর আগে ফেনসিডিল ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তার স্ত্রী এনজিও এনডিপি থেকে ১৬ হাজার টাকা কিস্তি এনে দিলে ছয় মাস আগে এনায়েতপুর হাটের কাঠপট্টি সংলগ্ন রাস্তার উপর শুরু করেন ফলের ব্যবসা। বর্তমানে তার প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মতো বেচাকেনা। এ থেকে ৫/৭শ’ টাকা আয় হয়। যা দিয়ে এক ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী এবং মা-বাবা নিয়ে ভালোই চলছে।
এক সময়ের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ইখতিয়ার সরকার জানান, আমার কাছ থেকে ফেনসিডিল কিনে অনেকে অধপতনে গেছে। এখন আল্লাহর অশেষ রহমতে যে ব্যবসা করছি তাতে আমার কাছ থেকে আম, কলা, ডাব, আপেল-কমলা, আনারস, পেঁপে খেয়ে কেউ আর নেশাগ্রস্ত হয়ে জীবন হারাবে না। স্বল্প পুঁজি নিয়ে একটু কষ্ট হলেও সত্ভাবে উপার্জন করছি বলে সবাই আমাকে সম্মান করছে। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন সত্ভাবে বাঁচার চেষ্টা করবো। তবে বর্তমানে চারটি মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে। এ থেকে পুলিশ ও সরকার রক্ষা করলে আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ থাকবো।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, ইখতিয়ার সু-পথে ফিরে আসায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। তার মামলাগুলো যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে সেগুলো বিবেচনা করে পুলিশ তার সহযোগিতা করতে ভূমিকা রাখবে।
