এখন সিঁড়ি বেয়ে স্কুলে যাবে চীনের সেই শিশুরা

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৬, ১৬:৪৪
বিশ্ব এখন অনেক উন্নত। আর এই উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা তো এখন বলা যায় সময়ের সেরা। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম-ই বুক সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে শিক্ষা এখন হাতের নাগালে। শুধু কি তাই, ক্লাস রুমে না গিয়েও এখন ‘টেন মিনিট স্কুল’ কিংবা অন্যান্য অনলাইন শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই নেওয়া যায় শিক্ষার আলোর ছোঁয়া।
 
কিন্তু এখনো বিশ্বের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে শিক্ষা লাভের পথ অনেক দুর্গম। তেমনি এক জায়গা চীনের সিচুয়ান প্রদেশে আতুলার গ্রাম। যেখানে ছোট ছোট শিশুদেরকে স্কুলে যেতে হয় বিশাল সব দুর্গম পাহাড় অতিক্রম করে ২৬২৫ ফুট উপরে।
 
টানা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে হয় তাদেরকে। ৬-১২ বছরের এই শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যায় স্কুলে। আখরোট আর মরিচ চাষ করেই মূলত ওখানকার মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু শিক্ষার আলো থেকে তারা বঞ্চিত। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে গ্রামের সাধারণ মানুষেরা মোড়লের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছে এই স্কুল। 
 
IMG0
 
এত উঁচুতে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকায় প্রতি দুই সপ্তাহে একবার হয় এই স্কুল। কিন্তু তাতেও নিরাপত্তার ঝুঁকি কমে না, কারণ পা ফসকে গেলেই পড়তে হবে দুহাজার ফুট গভীর খাদে। কিন্তু খুশির খবর হলো—শিক্ষার প্রতি এই শিশুদের আগ্রহ দেখে-আর তাদের কষ্ট দেখে চীনা সরকার শীঘ্রই এই পাহাড়ি দুর্গম পথকে তাদের চলাচল উপযোগী করে তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প পথে কিংবা নিরাপত্তা বলয় থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করা হবে। শিক্ষার আলো সবার জন্য—যেন এই বার্তায় দুনিয়ার সকলের কাছে পৌঁছে দিল এই শিশুরা।