'ক্ষতিপূরণ আদায়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি কোনো সরকার'

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৬, ১৯:৪০
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়ায় যে পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হয়েছে তা দিয়ে এখন প্রায় দেড় বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। আবার নষ্ট হওয়া গ্যাসের ক্ষতিপূরণ আদায়েও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি কোনো সরকার। এমনকি যারা সম্পদের ক্ষতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কোন কথাও হচ্ছে না।
 
মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত মাগুরছড়া দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায় এবং বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন দাবি জানানো হয়।
 
১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়ার মাগুরছড়া এলাকায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টালের দায়িত্বহীনতায় এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানাও গিয়েছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
 
জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণে পর এতো বছর কেটে গেলে, অথচ ক্ষতি বাবদ পাওনা আদায়ে সরকারকে একটি কথাও বলতে দেখা যায়নি। বরং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদের একটা বড় অংশ বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে গেছে। এসব কোম্পানি মুনাফা তুলে নিতে যেভাবে দ্রুত গ্যাস উত্তোলন করছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস শূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন, সরকার দেশের গ্যাস বিদেশি কোম্পানিগুলোকে উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়ে পরে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও বেশি দামে কিনছে। এর মাধ্যমে জনগণকে ঠকানো হচ্ছে। ভুল নীতির কারণে জাতীয় সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
 
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসাহিদা সুলতানা, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স।