আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, নিরীহ দরিদ্র পুরোহিতকে হত্যা করে খুনিরা যে অপরাধ করেছে তার ক্ষমা নেই। অচিরেই গুপ্ত ঘাতকদের দমন করা হবে। এসব খুনিদের দমনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহের করাতিপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলে এক শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাস দমন করা হয়েছিল। সন্ত্রাসীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমানের গুপ্ত ঘাতকদের দমন করা হবে। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ঝিনাইদহে নিহত পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীর বাড়িতে যান ও সদ্য বিধবা পুরোহিতের স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী, ছেলে অরুন ও সিন্ধু গাঙ্গুলীকে শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শেফালী গাঙ্গুলী পুরোহিতের সামান্য রোজগারে কিভাবে সংসার চালাতেন তার বর্ণনা দেন। মন্ত্রীরা শোকাহত পরিবারকে আনন্দ মোহন গাঙ্গুলী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরে শান্তি সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, আনন্দ গোপালের মত নিরীহ মানুষকেও গুপ্ত হত্যার শিকার হতে হচ্ছে। আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীর দুই ছেলেকে দেখিয়ে তিনি বলেন, যারা তাদের পিতৃহারা করেছে তাদের বিচার হবেই। আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দেশের সার্বিক উন্নয়ন করছে। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি নির্বাচনে যাননি, এ দোষ আপনার। ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। প্রস্তুতি নিন। নির্বাচনে না এলে আবার আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিব। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) দু একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু তাদের ভয়ে শেখ হাসিনা ভিতু নন। জামায়াত-বিএনপি ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর জ্বালাও পোড়াও ও আগুন সন্ত্রাস এবং মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। আমরা আগুন সন্ত্রাস দমন করেছি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ঘাতকরা শুধু পুরোহিত নয়, মাজারের খাদেম, গির্জার যাজক ও বৌদ্ধ মন্দিরের ভিক্ষুকে হত্যা করছে। ১৯৭১ সালে জামায়াত শিবির প্রকাশ্যে ও গোপনে মানুষ হত্যা করেছিল। এখন তারা গুপ্ত হত্যা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ফের বাঙালিদের গর্জে উঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চলমান জঙ্গি গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করছে। যারা জঙ্গি তত্পরতার সাথে যুক্ত তাদের ধরছে পুলিশ। তিনি সকলকে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, গুপ্ত হত্যায় জড়িতদের কোনো ছাড় নেই। প্রতিটি খুনের জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত। খালেদা জিয়া জঙ্গি জামায়াত ত্যাগ করেনি। গুপ্ত হত্যার মধ্য দিয়ে সাধারণ নারীদেরকেও হত্যা করছে। এসব জঙ্গি দমন করা হবে। এ মুহূর্তে আমাদের আরো ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তির বাংলাদেশ গড়া হবে। আমি খুনিকে খুনি ও রাজাকারকে রাজাকার বলি। সাহস রাখুন, ধৈর্য ধরুন। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ শান্তি ও উন্নয়নের দেশ হবে বলেই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এরফান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন প্রফেসর নিমচন্দ্র ভৌমিক, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার প্রমুখ।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল গেটে এক সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। সারাবিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিতে প্রশংসা করছেন। চিকিত্সকদের মানবিক গুণের অধিকারী হয়ে জনগণের সেবা করার পরামর্শ দেন তিনি। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সিভিল সার্জন ও চিকিত্সকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
