মির্জাপুরে অবৈধ করাত কলে চেরাই হচ্ছে চোরাই গাছ

আপডেট : ২০ জুন ২০১৬, ০১:১১
মির্জাপুরে সরকারি আইন অমান্য অবৈধভাবে গড়ে উঠা শতাধিক করাত কলে (‘স’ মিল) প্রকাশ্যে চেরাই হচ্ছে বনাঞ্চল থেকে চোরাই পথে কেটে আনা বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। এতে একদিকে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল আর এলাকার পরিবেশ পড়ছে হুমকিতে।
 
মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার আশপাশেই গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাত কল। উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে শতাধিক করাত কল রয়েছে যার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। এসব করাত কলের মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এসব করাত কল গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব করাত কল থেকে ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। যুগ যুগ ধরে এসব করাত কলে বনাঞ্চলের কাঠ এনে চেরাই করার ফলে উজাড় হতে চলেছে উপজেলার সরকারি বনাঞ্চল।
 
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন অধ্যাদেশ আইনে বনাঞ্চলের ১০ কি.মিটারের মধ্যে করাত কল বসানোর জন্য সরকারি কোনো বিধান নেই। সেই হিসেবে মির্জাপুরে কোনো মালিককে করাত কল বসানোর জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যারা করাত কল বসিয়েছে এগুলো সমপূর্ণভাবে অবৈধ। গত কয়েক দিন আগে চারটি করাত কল উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার নাদিরা আখতার বলেন, অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ করাত কল বন্ধ করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।