স্পোর্টস রিপোর্টার
নারী সাফের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরে চোখের জলে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। ভারত টানা চার বারের চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশ গতবারের ফাইনাল খেলেছিল এই ভারতের বিপক্ষে। হেরেছিল ৩-১ গোলে। এবার পঞ্চম আসরে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠতে পারল না। ২২ মার্চ ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নেপাল। গতকাল সকালে নেপালের বিরাটনগরে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে নেপাল ৪-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
একই মাঠে বিকালে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ভারত মুখোমুখি হয়। স্বাগতিক নেপালের খেলায় প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক আর বিকালে বাংলাদেশ ও ভারত সেমিফাইনালে প্রায় হাজার দেড়েক দর্শক। এই ম্যাচটার দিকে নজর ছিল অন্যান্য খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং দর্শকের। ভারতের ৪-০ গোলে হেরে চোখের জলে ভিজল বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা মাঠ। ছোট ছোট মেয়েরা বাস্তবতার কাছে হেরে গিয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
ভারত শক্তিশালী দল। চার বারের ট্রফি জয়ী। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলারদের জন্য লড়াই করা কঠিন। বয়স এবং অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে মারিয়া, মনিকা, কৃষ্ণা, সানজিদা, স্বপ্নারা। তারপরও কঠিন শপথ নিয়ে মাঠে লড়াই করতে নেমেছিলেন। দ্বিতীয় বার ফাইনালে উঠতে হলে যেভাবেই হোক ভারতকে বধ করতে হবে। সেই পথে মনিকাদের শুরুটাও দারুণ ছিল। গোলের খুব সহজ সুুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ম্যাচে দখল ছিল। চার বার কর্নার পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ভারত প্রথম কর্নার পেয়েই গোলের সুযোগ কাজে লাগায়। সেটাও যে খুব ভালো সুযোগ তাও না। কর্নার হতে উড়ে আসা বল গোলকিপার রূপনা চাকমা পজিশন নিতে পারেননি। সানজিদার কাছে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ফুটবলার দালিমা টোকা মেরে গোল করেন ১-০। অধিনায়ক সাবিনা, স্বপ্না, মনিকা, সানজিদা, আঁখিরা গোল শোধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে পাল্টা আক্রমণ করলেও কাউন্টার আক্রমণে গোল হজম করে মাত্র ৪ মিনিট ব্যবধানে। ইন্দুমাথি গোল করেন ২-০। মনোবল ভাঙনে নারাজ বাংলাদেশের ফুটবলাররা, তবুও আক্রমণে ঝাঁপিয়ে ছিলেন। এবারো কাউন্টার আক্রমণে ৩৭ মিনিটে তৃতীয় গোলটিও করেন ইন্দুমাথি ৩-০। বাস্তবতা হচ্ছে ভারতের ফুটবলাররা যখন বড় আসরে খেলতে শুরু করে, তখন বাংলাদেশের স্বপ্না, মনিকা, মারিয়া, সানজিদারা অনেকেই ছিলেন মায়ের কোলে। ভারতীয় ফুটবলারদের খেলা দেখলে মনে হয় না কোনো নারী ফুটবলার। তাদের শারীরিক গঠন, গতিময় ফুটবল, ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কাছে খুব সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে মানিকা, শিউলী, কৃষ্ণারা। এই মেয়েরা বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক ফুটবলে ভালো করছে, সাফল্য আনছে। তাই বয়স ভিত্তিক হোক কিংবা বড়দের লড়াই হোক, সবখানে এরাই খেলছে। সাফে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের কাছে হেরে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ
রূপনা চাকমা, শিউলী আজিম (নীলা), সামসুন নাহার, আঁখি, মাসুরা, মনিকা, সানজিদা (মিশরাত জাহান মৌসুমী), স্বপ্না, সাবিনা খাতুন (অধিনায়ক), কৃষ্ণরা রানী (মারজিয়া)। গোলকিপার মাহমুদা আক্তার ও ইয়াসমিন আক্তার। ইশরাত জাহান রত্না, তহুরা খাতুন, নারগিস খাতুন, রাজিয়া খাতুন।
