বাঁশখালীতে বেশিরভাগ নলকূপ অকেজো

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ নলকূপে পানি না উঠার কারণে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গণ্ডামারা, সরল, পুঁইছড়ি, কাথরিয়া, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, শীলকূপের পশ্চিমাংশ মনকিচর, বৈলছড়ির পশ্চিমাংশ, কালীপুরের পশ্চিমাংশসহ বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দারা চাহিদামতো পানি না পেয়ে রয়েছে চরম দুর্ভোগে।

একদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও অন্যদিকে মোটর চালিয়ে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে নেওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান। বাঁশখালীর পানীয় জলের সংকট নিরসনে আরো বেশি গভীর নলকূপ স্থাপন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা যায়, বর্তমানে বাঁশখালীতে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এ বোরো চাষে সেচের জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় বর্তমানে পানির তীব্র সংকট থাকায় সাধারণ মানুষকে সীমাহীন কষ্ট করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ বলেন, আমার এলাকায় কয়েকশ নলকূপ থাকলেও বর্তমানে তার বেশির ভাগ নলকূপে পানি না উঠার কারণে সাধারণ মানুষ পানির সমস্যার মধ্যে রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি থাকার কারণে এখানকার বাসিন্দাদের অনেক নলকূপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা নেই।

ব্যক্তিগতভাবে নলকূপ বসাতে এক-দেড় লাখ টাকার প্রয়োজন প্রয়োজন বলে জানান শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় কোনো নলকূপ নেই। সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কিছু নলকূপ পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বর্তমানে অধিকাংশ নলকূপে পানি না উঠার কারণে এলাকাবাসী নানাভাবে পানি নিয়ে দুর্ভোগে পড়ছে। একই কথা বলেন বাঁশখালীর উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট বদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, চাম্মল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী, বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন।

জানা যায়, বর্তমানে বাঁশখালীর পশ্চিমাংশের অধিকাংশ এলাকায় এক হাজার ফুট গভীরে গিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি শুষ্ক মৌসুমের ৩/৪ মাস খাবার পানি পাওয়াও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বাঁশখালীর দায়িত্বরত উপ-প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী বলেন, দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে আগের বসানো নলকূপগুলোতে এ মৌসুমে পানি উঠছে না। তা ছাড়া সরকারিভাবে বর্তমানে যে নলকূপ দেওয়া হচ্ছে তাও সহজলভ্য নয়। চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে বোরো চাষের কারণে পানির ঘাটতি থাকে বলে জানান তিনি।