ভোগান্তির নাম মৌচাক মগবাজার সড়ক

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৬, ০০:০৩
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণের শুরু থেকেই বাংলামোটর-মগবাজার-মৌচাক-রামপুরা-রাজারবাগ-শান্তিনগরের প্রধান সড়কের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তিন বছর ধরে চলা এ ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়ও পার হয়েছে বেশ কয়েকবার। তারপরও শেষ হয়নি কাজ, শেষ হয়নি জনভোগান্তি। সম্প্রতি সেই ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে সহ্যের সীমা পেরিয়ে গেছে বলে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন।
 
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রমজানের আগেই রাস্তা মেরামত এবং জলাবদ্ধতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যোগাযোগমন্ত্রীর নির্দেশের পর মৌচাক থেকে মালিবাগ পর্যন্ত সড়ক ঢালাই করে মেরামত করা হয়। কিন্তু তাতে গোটা সড়কের পথচারী ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি মেলেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অনেকে। অপর দিকে সড়কের ইট, সুরকি উঠে বহু গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের মাঝ দিয়ে ফ্লাইওভারের পিলার নির্মাণ করতে তৈরি করা হয়েছে একাধিক গভীর গর্ত। সেই সঙ্গে যত্রতত্র পড়ে থাকে নির্মাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এসব কারণে সড়কের দু’পাশই সরু হয়ে এসেছে। একদিকে রাজারবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল ও পল্টন; অপরদিকে মালিবাগ রেলগেট, আবুল হোটেল ও মগবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সারাক্ষণ  যানজট লেগে থাকছে।
 
সরেজমিনে গতকাল রবিবার এসব এলাকায় ঘুরে যানজটের ভয়াবহতা দেখা গেছে। অপর দিকে ওই সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করা পথচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ কালে শুধুই ভোগান্তির কথা জানা যায়। যানজটে পড়ে ও প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে পরিবহনের মধ্যে আটকে থাকায় বহু যাত্রীকে অসুস্থ হতে হয়েছে। পরিবহন থেকে থেকে নেমে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়ার উপায়ও নেই তাদের। কারণ ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানেও কাদা-পানি।
 
ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা বাসচালকরা জানান, ফ্লাইওভারের কাজ চলাতে সড়কের নীচে থাকা বিভিন্ন ড্রেন ও স্যুয়ারেজের লাইনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থাকে ও স্যুয়ারেজের ময়লা পানি সড়কের ওপর ভেসে ওঠে। মালিবাগ মোড়ের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ফ্লাইওভাবের কাজের কারণে এই এলাকায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। কিছুক্ষণ পর পর কাদা-পানিতে চলতে গিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশার মতো ছোট গাড়ি নষ্ট হয়ে আটকে পড়ছে। তাতে গত এক বছর ধরে এই এলাকায় বেচা-কেনা কমে গেছে। সম্প্রতি যোগাযোগমন্ত্রীর নির্দেশের সড়কের কিছু কিছু অংশ মেরামত করা হলেও অধিকাংশ এখনও চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে। সে কারণে ভোগান্তি এখনও কমেনি। ঈদের বেচা-কেনাও বাড়ছে না।
 
যানজটে আটকে থাকা পথচারীরা বলেন, যানজটের কারণে এ সড়কে গাড়ি ঢুকলে এক ঘণ্টার আগে বের হওয়া সম্ভব হয় না। আবার পরিবহন ছেড়ে হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।