রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে এ বছর প্রজনন মৌসুমে (মে-জুলাই) কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী উপকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় এ বছর কাসালং চ্যানেলে (কাট্টলী-বাঘাইছড়ি) কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন সংগঠিত হয়েছে।
গত ১১ জুন উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ কাসালং চ্যানেলের মাস্তানের টিলা নামক স্থান থেকে কার্প জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন। এর ফলে প্রায় এক যুগ পর কাপ্তাই লেকে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন পুনঃনিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এখন ডিম থেকে রেণু ও পোনা তৈরির প্রস্ততি চলছে।
বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী উপকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, আবহাওয়ার বিভিন্ন অনুঘটক যেমন বৃষ্টিপাত, ঝড়ো বাতাস ও পানির তাপমাত্রা ইত্যাদি অনুকূলে থাকলে প্রাকৃতিকভাবে কার্প জাতীয় মাছ প্রজনন ক্রিয়ায় অংশ নেয়। তিনি আরো বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে এ বছর কাপ্তাই লেকে কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন পরিপক্কতা দেরিতে এসেছে, তাই এই মৌসুমে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আবারও কার্প জাতীয় মাছ ডিম ছাড়বে।
চলতি বছরের মে মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব কম হলেও গত কয়েক দিনে ব্যাপক পরিমাণ পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের সাথে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হয়। ভারি বর্ষণের ফলে কাসালং চ্যানেলে পানির উচ্চতা এবং স্রোতের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীগণ জানান, এ বছর প্রাকৃতিক প্রজনন সংঘটনের জন্য অনুকূল প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে কার্প জাতীয় মাছের আরো ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের মজুদ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করতে হলে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো পুনঃখনন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রজনন এলাকাগুলো অভয়াশ্রম ঘোষণা করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
