ইস্টার্ন প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, প্লাজা এআর, রাপা প্লাজা, অর্কিড প্লাজা, সানরাইজ প্লাজা, মালিবাগের মৌচাক মার্কেট, হোসাফ টাওয়ার, টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, প্রিন্স প্লাজা, নাভানা বেইলি স্টার, ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, গাজী ভবন প্রভৃতি মার্কেটে দর্শনার্থী-ক্রেতার ভিড় ছিল বেশ। গতকাল টুইন টাওয়ার ও কর্ণফুলী শপিং কমপ্লেক্সে মোটামুটি ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা যায়। নতুন শপিংমল নাভানা বেইলি স্টার ও ক্যাপিটাল সিরাজ স্টোরেও ছিল সন্তোষজনক ক্রেতার ভিড়। এখানেই টেক্সমার্ট থেকে শিশুর জন্য পোশাক কিনলেন ইব্রাহিম বিল্লাহ। ইব্রাহিম জানান, বাচ্চার গেঞ্জি সেট কিনতে তার গুনতে হয়েছে এক হাজার দুইশ’ টাকা। ভিড় পাশের গাজী ভবন মার্কেটেও। এ দুটি শপিংমলে থাকা ব্র্যান্ডের পোশাকের আউটলেটগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল দুই স্থানেই ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত সময় কেটেছে বিক্রেতাদের। এসব মার্কেটে ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট, শিশু পোশাকসহ নানারকম রেডিমেড পোশাকও বিক্রি হয়েছে ছয়শ’ টাকা থেকে ১২/১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এলিফেন্ট রোডের মনসুর ভবনে প্রতিটি দোকানেই ক্রেতা আর বিক্রেতার আলাপচারিতায় মুখর হয়ে উঠেছে। প্রাইসটা কত, এক সাইজ ছোট হবে কিনা, অন্য আর কি কি কালার আছে এমন সব প্রশ্নের আদান প্রদানের মাধ্যমে ঈদ কেনাকাটা এবার ভালই জমেছে বোঝা যায়। এই মার্কেটের ড্রিম ওয়ার্ল্ড এর স্বত্বাধিকারী মোঃজসিম বলেন, এই সময়টায় অর্থাত্ ২টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত বেশ জমে কেনাবেচা। আবার একটা ভিড় দেখা যায় রাত সাড়ে নয়টা থেকে। আর মাত্র ৭/৮ দিন বাকি তাই ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই ব্যস্ত ঈদ ভালভাবে উদযাপনের জন্য। জসিম জানান, প্রতিদিনই তাদের রাত দেড়টা/দুইটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। বিক্রি হয় দোকান ৬০/৭০ হাজার খেকে ৩/৪ লাখেরও বেশি।
ড্রিম ওয়ার্ল্ড থেকে জিন্স প্যান্ট ও টিশার্ট কিনলেন ফার্দিন ও জুনায়েদ দুই ভাই। তারা জানান, হাতিরপুলে থাকেন বরাবরই মনসুর ভবন থেকে কেনাকাটা করেন। এই মার্কেটে আছে এক্সপার্ট, রিচপয়েন্ট, নক্ষত্র, ম্যান্স ক্লাব প্রভৃতি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের আউটলেট। রিচপয়েন্ট থেকে বাবার জন্য শার্ট কিনলেন মনি আবেদ। জানান দাম ১৪৬০ টাকা। এখানেই ২২শ টাকায় পকেট ও কলারে ডিজাইন করা ফিটিং শার্ট নিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সায়মন। এলিফেন্ট রোডের ক্রেতাবিক্রেতা উভয় দাবি করেন, মানসম্পন্ন পণ্য এখানে সঠিক দামে পাওয়া যায়। তবে কোনো কোনো ক্রেতা মন্তব্য করেন, এলিফেন্ট রোডের আগের ঐতিহ্য আর নেই।
নগরীর পলওয়েল সুপার মার্কেটখ্যাত বিদেশি পোশাকের জন্য। এই মার্কেটের নিপ্রিতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এস এম সালাউদ্দিন বাশার ইত্তেফাককে বলেন, তিন/চার দিন যাবত্ তাদের বেচাকেনা ভাল হলেও তা গত বছরের তুলনায় কম। কেমন কম প্রশ্ন করলে সালাউদ্দিন বাশার বলেন, গত বছর এই সময়ের চেয়ে এবছর ৩০শতাংশ কম। কেমন কম প্রশ্ন করলে বলেন, নানাবিধ কারণ আছে। কয়েক বছর ধরেই মার্কেট ভাল যাচ্ছে না। গতবছর যা ছিল এবার তাও নাই। এবছর কোন পোশাকের চাহিদা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে জানান-হিরো, পিকে, মালব্রো প্রভৃতি জিন্স প্যান্ট বাজারে বেশ জনপ্রিয়। এইসকল পোশাকের দাম নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন,পলওয়েল সুপার মার্কেটে পোশাকের মূল্য ক্রেতার সহনীয় পর্যায় থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এখানে পিকে জিন্স প্যান্ট পাওয়া যাবে-এক হাজার ৩৫০ টাকা,মালব্রো-এক হাজার ৬শ’ থেকে এক হাজার ৭শ’ টাকা, টিশার্ট ৭শ’ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৭/৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এখানে জিকিউ,লুইস,ফ্রাডো, জংলং ফোর্ড, গিফিনি প্রভৃতি ব্র্যান্ডের টি-শার্ট যাওয়া যাবে তিন হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। পলওয়েল সুপার মার্কেটে জুতোর দোকানে তরুণ ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
