ভোলায় ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৫

ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি 

ভোলার দৌলতখানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা মূল্যের চাল ৩০ কেজির স্থলে ২৫/২৬ কেজি ও মূল্য তিনশ’ টাকার স্থলে সাড়ে তিনশ’ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গম চর মদনপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালের ডিলার মাহবুব আলম ভুট্টুর বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ উঠে। ফলে এলাকার হতদরিদ্র সুবিধাভোগী মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাহবুব আলম ভুট্টু ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি।

মদনপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন জানান, তার ওয়ার্ডে ১০ টাকা কেজি দরে চালের ৩০ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা বলে ডিলার মাহবুব আলম ভুট্টু সাড়ে তিনশ’ করে টাকা নিয়েছে। এমনকি সে বস্তা প্রতি চার থেকে পাঁচ কেজি করে চাল মাপে কম দিয়েছে। ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মোঃ হারুন, শাহজান মাঝিসহ একাধিক সুবিধাভোগী জানান, চালের ডিলার তাদের কাছ থেকে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা বলে তিনশ’ টাকার স্থলে সাড়ে তিনশ’ টাকা করে নিয়েছে। তারপরও সে ওজনে ৩০ কেজির স্থলে কাউকে ২৫ কেজি আবার কাউকে ২৬ কেজি করে দিয়েছে। অভিযুক্ত ডিলার মাহবুবব আলম ভুট্টু টাকা বেশি নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চরে চাল নিতে বেশি খরচ হওয়ায় প্রতি নামে ৫০ টাকা করে বেশি নেয়া হয়েছে। তবে ওজনে কাউকে কম দেয়া হয়নি। যদিও কম হয়ে থাকে সেটা গুদামের লোকজন জানে। আমি গুদাম থেকে বস্তা হিসেবে আনি এবং বস্তা হিসেবে বিলি করি।

মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাছিরউদ্দিন নান্নু ডিলারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, দৌলতখান গোডাউন থেকে মদনপুর চরে একটন চাল আনতে খরচ হয় দুই হাজার টাকা অথচ অন্য জায়গায় নিতে খরচ হয় এক থেকে দেড়শ’ টাকা। এজন্য পরিবহন খরচ বেশি বিধায় ডিলার অতিরিক্ত ৫০ টাকা বেশি নেয়। আর ওজনে কম দেয়ার প্রশ্নই আসে না। যেহেতু গোডাউন থেকে ৩০ কেজির বস্তা দেয়া হয়। আর ওই অবস্থাই সেগুলো বিতরণ করা হয়। যদি কম থেকে থাকে তাহলে লেবাররা উঠা-নামা করাতে গিয়ে বস্তা ছিদ্র হয়ে চাল পড়ে যাওয়ায় মাপে কম হতে পারে। এ ব্যাপারে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, চাল বিক্রি করে অতিরিক্ত টাকার নেয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।