তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত আর পরীক্ষা থাকছে না

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ২৩:১৫

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সব ধরনের পরীক্ষা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়। স্কুলে উপস্থিতি, স্কুল থেকে দেয়া ডায়েরির রিপোর্টসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড এই তিন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে তাদের মূল্যায়ণের পদ্ধতি নির্ধারণে একাধিক কর্মশালার কথাও ভাবা হচ্ছে।

শিশুর ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর সব পরীক্ষা তুলে দিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। গত ১৩ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুকে পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতেও অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি শ্রেণীতে বছরে তিনটি থেকে ছয়টি করে পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার জন্য প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকে তারা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওইসব দেশে বাচ্চাদের কোনো পরীক্ষা নেই। তারা কীভাবে শিশুর মেধার মূল্যায়ন করে, সেসব বিষয় খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনে কমিটি গঠন করতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই বাবা-মায়েরা ৭ বছরের আগে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠায় না। অথচ আমাদের অনেক ছোট বয়সে বাচ্চারা স্কুলে যায়। তারা যেন হাসি, আনন্দ, খেলাধুলার মধ্যে পড়াশোনাটাকে নিজের মতো করে শিখতে পারে, সেই ব্যবস্থাটাই সবার করা উচিত। 

সচিব জানান, দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘নার্সারি’ শ্রেণি চালুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশুদের কিন্ডার গার্টেন বিমুখ করা ও ৪ বছর বয়সী সব শিশুকে সরকারি প্রাথমিকে ভর্তির জন্যই এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির আগে আরো দুটি শ্রেণি চালু করা হবে। এর নাম এবং কারিকুলাম তৈরির জন্য প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী জাকির হোসেন তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।