আরবের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন স্থানে ঈদ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৬, ১৫:৩৭
চাঁদপুর, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, মৌলভীবাজার ও মুন্সীগঞ্জ জেলার শতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার রোজার ঈদ উদযাপন করছে।
 
মঙ্গলবার চাঁদ দেখতে না পাওয়ায় বাংলাদেশের বেশিরভাগ মুসলমান ঈদ উদযাপন করবেন বৃহস্পতিবার। তবে এসব গ্রামের বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা বরাবরই রোজা, ঈদ, শবে-বরাত, শবে-মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে।
 
মধ্যপ্রাচ্যে মঙ্গলবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আরব দেশে আজ বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। 
 
 
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন চাঁদপুরের ৪০ গ্রামের মুসলমানরা। আজ সকাল ১০টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা আহম্মদিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ঈদের নামাজের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ উল্যাহ।
ভোর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হলেও তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন।
 
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলা, চিরিরবন্দর, কাহারোল ও বিরল উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বুধবার ঈদ পালন করা হচ্ছে। সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের পার্টি সেন্টার নামে একটি কমিনিউটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় একটি জামাত। ইমামতি করেন হাফেজ মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ।
 
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১৩টি গ্রামের শতাধিক পরিবার বুধবার ঈদ উদযাপন করছে।
 
সকাল ৮টার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার আব্দুল কাদের দুলদুলের ধানের চাতালের অস্থায়ী ঈদগাহে একটি জামাত হয়। এতে ইমামতি করেন আসাদুজ্জামান।
 
তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভালকী, পায়রাডাঙ্গা, বৈঠাপাড়া, কুলবাড়িয়া, বোয়ালিয়া, পার্বতীপুরসহ ১৩ গ্রাম থেকে শতাধিক মুসলমান এখানে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
 
 
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার।
 
বুধবার সকাল ৭টায় জেলা শহরের সার্কিট হাউজ এলাকায় আহমেদ শাবিস্তার বাসার ছাদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানের দেড় শতাধিক পরিবারের মানুষ নামাজ আদায় করেন।
 
জামাতে ইমামতি করেন আলহাজ আব্দুল মাওফিক চৌধুরী পীর সাহেব। আলাদা ব্যবস্থা থাকায় একই জামাতে নারীরাও নামাজ আদায় করেন।
 
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার ৯টি গ্রামে বুধবার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর, বাংলাবাজার, বাঘাইকান্দির ও কংসপুরার একাংশ।
 
এসব গ্রামের জাহাগীর তরিকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।
 
 
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, বুধবার শেরপুর জেলার চারটি গ্রামে ঈদ হচ্ছে। সদর উপজেলার চরখারচর সাতানিপাড়া ও চরখারচর উত্তর পাড়া, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও চতল গ্রাম।
 
সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে এসব গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
 
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শারশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা গ্রামসহ ১১টি গ্রামে বুধবার ঈদ হচ্ছে।
 
সকাল ১০টায় রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও বাজারের তালিমুন কোরান নুরানী মাদ্রাসা মাঠে ঈদের নামাজের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা নেছার আহমদ।
 
মাওলানা ইসহাক (রা.)-এর অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন ।
 
বিডিনিউজ।