যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যাকারী নিহত মিকাহ জনসনের (২৫) বাড়ি থেকে বোমা তৈরি উপাদান, রাইফেল, গুলি ও যুদ্ধ-বিষয়ক সাময়িকী উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। পুলিশের গুলিতে দুই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডালাসের কেন্দ্রস্থলে প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে সে হত্যা করে পাঁচ পুলিশকে।
মিকাহ যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। তিনি আফগানিস্তানে ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিকটবর্তী শহরতলী মেসকিটে জনসনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে 'বোমা তৈরির উপাদান, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, রাইফেল, অস্ত্র ও যুদ্ধ-কৌশল বিষয়ক ব্যক্তিগত সাময়িকী' পাওয়া যায় বলে শুক্রবার একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডালাস পুলিশ।
জনসনের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডালাসের পুলিশ প্রধান ডেভিড ব্রাউন জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন সমঝোতা প্রচেষ্টাকারীকে বলেছেন, তিনি (সন্দেহভাজন হামলাকারী) শ্বেতাঙ্গদের হত্যা করতে চান। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের। কারণ সম্প্রতি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডালাসের মেয়র মাইল রাওলিং জানিয়েছেন, মিকাহ একাই গুলিবর্ষণ করছিলেন বলে কর্মকর্তাদের বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহরটি এখন নিরাপদ।
তিনি জানান, সামরিক কৌশলের ওপর জনসনের লেখা 'মেনিফেস্টো' ছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসনের দেওয়া পোস্টে দেখা যায়, তিনি কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদের উগ্র আদর্শ প্রচার করছিলেন। গেল সপ্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ফিল্যান্ডো ক্যাসটাইল ও লুইজিয়ানায় অ্যাল্টন স্টার্লিং নামের দুই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। সব জায়গায় প্রায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শেষ হলেও জর্জিয়া, মিজৌরি ও টেনেসিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার টেনেসিতে সেনাবাহিনীর সাবেক এক কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যের গুলিতে এক নারী নিহত ও অপর তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। গ্রেফতারের পর ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি আফ্রিকান-আমেরিকানদের উপর পুলিশের সহিংসতা নিয়ে উত্তেজিত ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আটলান্টায় পুলিশের সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। তারা শহরের একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখলে সেখানে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এ হামলার পর পোল্যান্ডে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডালাস মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন এবং আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে 'গভীর সমবেদনা' প্রকাশ করেন। এ ঘটনা তদন্তে ডালাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এফবিআই। ফেডারেল সরকারের পক্ষে থেকেও সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ওবামা। বিবিসি ও বিডি নিউজ।
