ফেডারেশন কাপ ফুটবল ফাইনাল আজ

নতুনের বিপক্ষে পুরনোর লড়াই

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৯

দেশের ফুটবলে আবাহনী ঐতিয্যবাহি দল। পুরোন দল। অতীত ইতিহাস অনেক পুরনো। আর বসুন্ধরা কিংস মাত্রই দেশের ফুটবলে জন্ম হওয়া একটি নতুন সংগঠন। কাগজে কলমে বড় দল হয়ে উঠা বসুন্ধরা কিংস ঘরোয়া ফুটবল ফেডারেশন কাপে এসেই ফাইনালে জায়গা কয়ে নিল। আর আবাহনী এবার নিয়ে টানা তিনবার ফাইনাল খেলছে। পুরনো আবাহনী বিপক্ষে নতু বসুন্ধরার ট্রফি লড়াই আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে।

আবাহনীর সামনে হ্যাটট্টিক শিরোপা এবং বসুন্ধরার সামনে ইতিহাস। চ্যাম্পিয়ন হলে এএফসির টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ। এমন পরিস্থিতিতে টানটান উত্তেজনা ফাইনালের আগে। চ্যাম্পিয়ন হলে তিনবার ট্রফি পাবে। বসুন্ধার চ্যাম্পিয়ন হলে এসেই বাজিমাত করে দেয়ার খ্যাতি। সেই সঙ্গে এএফসি কাপ ফুটবলের টিকিটও নিশ্চিত। নতুন আর পুরনোর লড়াই বলা হলেও আবাহনী এবং বসুন্ধরা, দুই দলের খেলোয়াড়রা এই মাঠেইর খেলোয়াড়। নবাগত বসুন্ধরা হলেও খেলোয়াড়রা কেউ নবাগত নয়। শুধু দলের সাইনবোর্ডটাই নতুন। সেকারনে দলের খেলোয়াড়রা আবাহনীকে ভয় পাচ্ছেন না। ভয়ডরহীন ফুটবল উপহার দেয়ার কথা জোরাল কণ্ঠে জানিয়ে গেছেন সেমিফাইনালে একমাত্র গোল করে জয় এনে দেয়া বুসন্ধরার তৌহিদুল আলম সবুজ। দলের অধিনায়ক রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কোষ্টারিকার ফুটবলার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস এবং দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেনও আসেনি সংবাদ সম্মেলনে। পাঠিয়ে ছিলেন সহকারী কোচ দেশের সাবেক ফুটবলার ফয়সাল মাহমুদ এবং সবুজকে। তারা জানিয়ে গেলেন ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরবেন। আবাহনীকে বড় দল মেনে নিয়ে দুজনেই জানালেন তাদের খেলোয়াড়দের আত্নবিশ্বাস অনেক বেশি। দুই দলের দুটি বড় অস্র আক্রমনভাগে। বসুন্ধরার কলিন্দ্রেস এবং আবাহনীর সানডে চিজোবা। দুইজনেই এখন ঢাকার মাঠের ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য। বিপদজনক। তবে সেমিফাইনালে পার্থক্য হচ্ছে কলিন্দ্রেস গোল পাননি। ৯০ মিনিটের খেলা অতিরিক্তি ৩০ মিনিটে গড়িয়ে গেলেও কলিন্দ্রেসরা বসুন্ধরাকে গোল উপহার দিতে পারছিলেন না। সময় মত কাজের কাজটি না করতে পারলে বিপদ ঘাড়ের উপরে এসে যায়। কোষ্টারিকার ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত মহেশখালীর ছেলে সবুজ সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে গোল করলেন। কলিন্দ্রেস গোল না পেলেও গোলের বলটি অনেকটাই তার উত্স থেকেই আসা। আর আবাহনীর সানডে সেমিফাইনালে হ্যাটট্টিক করে শেখ জামালকে বিদায় করে দিয়েছেন। সানডের পারফরম্যান্সে দারুন উত্ফুল্ল আবাহনী। তাই হয়ত আবাহনীর কোচ জাকারিয়া বাবু নিজেকে নিশ্চন্তই রাখছেন। বলছিলেন তিনি সব দলের মত আজকের ফাইনালে বসুন্ধরাকেও সমান প্রতিপক্ষ মনে করছেন। বাবু বললেন,‘অন্যান্য অপনেন্ট যেমন। ঠিক তেমনি বসুন্ধরাও অন্যান্য দলের মতই সমান। আবাহনীর সহকারী ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলছিলেন আমরা হ্যাটট্টিক শিরোপার কাছাকাছি। আমি অনেক দিন দেখিনি যেটা।’ অধিনায়ক গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল বলছিলেন আমি ১০ বছর ধরে আবাহনীতে খেলছি। অনেক শিরোপা উপহার দিয়েছি। আমি অন্য কোনো খেলোয়াড় (বসুন্থরার কলিন্দ্রেস) নিয়ে ভাবি না।’

এটা নিশ্চিত পুরনো দলের বিপক্ষে নতুন দলের লড়াই হলেও ফুটবল দর্শক আজ একটা জম্পেশ লড়াই উপভোগ করতে পারবেন মাঠে।