রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৬, ২১:৩১
বাগেরহাটের রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরিবেশবাদী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের বিরোধিতার মধ্যেই এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
 
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কেন্দ্রটির মালিক ও পরিচালক বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) এবং ঠিকাদার কোম্পানি ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের (ভেল) মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিআইএফপিসিএল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) সমান অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
বিআইএফপিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৫০ কোটি মার্কিন ডলার)। এর ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তা কোম্পানি। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারই এই ঋণ সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক থেকে ভেল ঋণের অর্থ পাবে। দুই শতাংশ সুদে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই অর্থ পাওয়া যাবে।
 
নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে ভেলের নির্বাচন ও নিযুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ পক্ষ তথা পিডিবি অনুমোদন করেছে গত জানুয়ারি মাসে। এরপর এনটিপিসির অনুমোদন পাওয়ার পর চুক্তি সইয়ের জন্য ভেলকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) শুল্কমুক্ত আমদানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেরীতে মঞ্জুরি দেয়ায় নির্মাণ চুক্তি সইও পিছিয়ে যায়।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১০ সালে পিডিবি ও এনটিপিসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। আমদানিকৃত কয়লানির্ভর সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রটিতে ব্যবহারের জন্য কয়লার উৎস, কয়লা আনার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিশ্চিত হয়নি। নির্মাণ শেষে কেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন কয়লা লাগবে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। কেন্দ্রটির নির্মাণস্থল সুন্দরবনের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। এটি নির্মাণের সময় ও পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণের ফলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবিদরা ও বিভিন্ন সংগঠন।