সিরাজগঞ্জ হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৬, ০০:২২
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সিরাজগঞ্জ হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। জেলা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শন যেগুলো সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সমর্থ হবে। সিরাজগঞ্জ শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে হাটিকুমরুলে রয়েছে অপূর্ব সুন্দর স্থাপত্য নিদর্শন নবরত্ন মন্দির। নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর নায়েবে দেওয়ান রমানাথ ভাদুড়ী এটি নির্মাণ করেন। এককালে এই ভাদুড়ী বাড়ি ছিল ধন ঐশ্বর্যের গর্বে গর্বিত একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার। যাদের কথা লোকমুখে আজও শোনা যায়। এ মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট, চৌকোণা এবং নয়টি চূড়া বিশিষ্ট। যা পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করতে সক্ষম। এছাড়া জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় রয়েছে রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত জমিদারী দেখাশুনার কাজে শাহজাদপুর কাচারিতে আসতেন এবং সাময়িক বসবাস করতেন। তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারি একসময় নাটোরের রাণী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র ১০ টাকা ১০ আনায় এ জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদপুরের কাচারি বাড়িটিও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়।
 
তাড়াশে রয়েছে বেহুলার স্মৃতিবিজড়িত কূপ। তাড়াশ উপজেলার বিনসারা গ্রামে কূপটির অবস্থান। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কূপটি মাটির নিচে ছিল। তাড়াশ উপজেলার আরংগাইল গ্রামের নবু খন্দকার স্বপ্নে দেখে বিনসাড়া গ্রামে এসে মাটি খুঁড়ে কূপটি বের করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
 

এছাড়াও তাড়াশ উপজেলার নওগাঁতে রয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ধর্ম প্রচারক হযরত আব্দুল বাকী শাহ শরীফ পীর জিন্দানী (রহ.) ওরফে দাদাপীরের মাজার এবং শাহজাদপুরে রয়েছে প্রখ্যাত সাধক শাহ মখদুম শাহাবুদ্দৌলা শহীদ (রহ.)-এর মাজার। সিরাজগঞ্জ শহরে রয়েছে মাও আফজাল (রহ.) ও ইসমাঈল হোসেন সিরাজীর মাজার। এছাড়াও মওলনা আব্দুল হমিদ খান ভাষানী, মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্ন, গণিত সম্রাট যাদব চক্রবর্তীসহ অনেক গুণী ব্যক্তির স্মৃতি বহন করছে সিরাজগঞ্জ। আরো রয়েছে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট। যমুনা নদীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ শহরকে রক্ষার জন্য নির্মিত প্রায় ৩ কি.মি. হার্ডপয়েন্ট বর্ষাকালে বিনোদনপ্রেমীদেরা মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ যমুনা পারে ভিড় জমায় একটু বিনোদনের জন্য। সবমিলিয়ে সিরাজগঞ্জে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।