আল ফাতাহ মামুন
সবে দশম শ্রেণিতে উঠেছে শোভন। এত অল্প বয়সেই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় সে। মার্চের ২৫ তারিখ রাতে ঢাকার নিরীহ ঘুমন্ত মানুষের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় পাকিস্তানিরা। ২৬ তারিখ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুরু হয় যুদ্ধ। স্বাধীনতার যুদ্ধ। একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য, একটি মুখের হাসির জন্য বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে যার যা আছে তাই নিয়ে। শোভনের বড় ভাই সুমনও যুদ্ধে যায়। বাবা পাকিস্তান সরকারের কর্মচারী হয়েও পক্ষ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের। কিন্তু তাই বলে তো ছোট্ট শোভন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক কিংবা যুদ্ধের ভাবনায় বিভোর থাকুক তা চাইবে না কেউই। যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে শোভনকে পাঠিয়ে দেয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। মেঝো মামার কাছে।
গ্রামে এসে শোভন আবিষ্কার করে এক ভয়াবহ সত্য। মেঝো মামা হাত মিলিয়েছে পাকিস্তানি মিলিটারিদের সঙ্গে। সহজ বাংলায় মেঝো মামা খাঁটি রাজাকার। মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে মামা। স্বাধীনতাকামীদের ধরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি খুনও করছে। বাংলার মাটি-পানি-বাতাসে বেঁচে থেকে বাংলার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র! ঘৃণায় ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যায় শোভনের। মামার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া বাঁধিয়ে ফের ঢাকা চলে আসে শোভন। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে প্রথমে মুক্তিবাহিনীকে নানানভাবে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা আঁটে। এখানেও বাদ সাধে খুদে রাজাকার বাদল। অন্যান্য বন্ধুরা বয়সের কারণে ঠিক সাহস করে কিছু বলতে পারছে না। এমন একটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কীভাবে বন্ধুদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় জানতে হলে আজই দেখে ফেল ‘শোভনের স্বাধীনতা’।
রশীদ হায়দারের উপন্যাস অবলম্বনে মানিক মানবিকের পরিচালনায় দুর্দান্ত শিশুতোষ এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাটি অল্প সময়ের জন্য হলেও তোমাকে ভাবতে বাধ্য করবে—তুমিও একজন শোভন। একজন খুদে মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটির শুটিং শুরু হয় ২০১২ সালে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া বাজারে। শুটিং করতে গিয়ে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস এবং অভিনেত্রী পূর্ণিমা শেয়ালের কবলে পড়লে দৌড়ে পালাতে হয় দুজনকেই। তবে যা-ই বলো না কেন, সিনেমার শেষ দৃশ্যে পৌঁছালে আবিষ্কার করবে কখন যে তোমার মন গলে চোখ ভিজে অশ্রু ঝরছে, টেরও পাওনি তুমি।
