আসন্ন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে রিও ডি জেনিরোর ট্রেন স্টেশনে সন্ত্রাস বিরোধী মহড়া পরিচালনা করেছে ব্রাজিলের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। সম্প্রতী ফ্রান্সের নিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ছাড়াও সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে প্রথমবারের মত ব্রাজিলে আয়োজিত অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির।
এই মহড়ায় দুজন সন্ত্রাসীকে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো একটি ট্রেন লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়তে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি কিভাবে নিরাপত্তা বাহিনী সামাল দিবে সেটাই কাল প্রস্তুতি হিসেবে মহড়া দিয়েছে স্থানীয় একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল। এ সময় দেখা গেছে প্রায় এক ডজন নিরাপত্তা কর্মী সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে, এ ছাড়াও দুটি হেলিকপ্টারে বিশেষ একটি বাহিনী পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পরে মহড়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বলা হয় তারা ট্রেনের মধ্যে গ্রেনেড পেয়েছে যা পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এই মহড়াটি রিও’র উত্তরাঞ্চলে ডিওডোরো ট্রেন স্টেশনে পরিচালিত করা হয়। ডিওডোরো চারটি মূল অলিম্পিক ভেন্যুর অন্যতম। এখানেই মারাকানা, কোপাকাবানাসহ রিও গেমসের সদর দফতর অবস্থিত।
এ সম্পর্কে সেনাবাহিনীর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান জেনারেল মাওরো সিনোত বলেছেন, এই ধরনের অনুশীলন খুবই জরুরি। কারণ এর ফলে সত্যিকারের সন্ত্রাসী হামলার বিপক্ষে আমরা আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারবো। এই ধরনের আরেকটি মহড়া অন্যান্য ভেন্যু ছাড়াও প্রাদেশিক অঞ্চলে পরিচালনা করা হবে। এই ইউনিটের অধীনে আমরা বিশেষ করে ফুটবল ম্যাচগুলো যেখানে অনুষ্ঠিত হবে সেই ভেন্যুগুলোর উপর বিশেষ নজর রাখছি।
অলিম্পিকের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ কমিটির সমন্বয়কারী ক্রিস্টিয়ানো বারবোসা সামপাইয়ো বলেছেন, ব্রাজিলও কোনভাবেই ঝুঁকির বাইরে নয়। গেমস চলাকালীন সময়টিতে আমরা ইতোমধ্যেই ইয়েলো এলার্ট জারি করেছি। এরপরেও বড় কোন সমস্যা দেখা দিলে ওরেঞ্জ কিংবা রেড এলার্ট জারি করার চিন্তাও আমাদের রয়েছে।
অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে ব্রাজিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যেই বৈঠক করেছে ব্রাজিল সরকার। গত ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস নগরীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই হামলায় ৮৪ ব্যক্তি নিহত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে গেমসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদারের পাশাপাশি গেমস সংশ্লিষ্ঠ সফরকারীদের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। গেমস উপলক্ষে অন্তত ৫ লাখ বিদেশী ব্রাজিল সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে যে কোন সংকট মোকাবেলায় তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে গেমস চলাকালে রিও'র কিছু কিছু এলাকার অফিস আদালতে গণছুটি, ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল কর্তৃপক্ষ।
রিও'র মেয়র এডুয়ার্ডো পেইস বলেছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের ওপর যে কোন ধরনের হামলা মোকাবেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে ফ্রান্সের সামরিক গোয়েন্দারা জানিয়েছে যে রিও গেমসে অংশগ্রহন করতে যাওয়া ফরাসি দলের ওপরও সন্ত্রাসী হামলা হবার আশংকা করছেন তারা।
ব্রাজিলের ক্রীড়া মন্ত্রী লিওনার্দো পিচ্চিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, 'নিজেদের প্রস্তুতিতে ব্রাজিল যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী। আমরা সবচেয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পদ্ধতি প্রয়োগ করছি।'
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ক্রীড়া মন্ত্রী বলেছিলেন যে নিরাপত্তার প্রয়োজনে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অতিরিক্ত আরো ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া হবে। ২৪ জুলাই থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্রীড়া ভেন্যু এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গেমস চলাকালে ৮০ হাজারেরও বেশী পুলিশ ও সেনা সদস্য রিও’র সড়কগুলোতে টহল দেবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। বাসস।
