উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে সাগরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছে। এর আগে গত মাসেও ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের চেষ্টা করেছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তখনকার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়।
দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াংজু শহর থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উেক্ষপণ করা হয়। জাপান সাগরের ওপর দিয়ে এগুলো ৩১১ থেকে ৩৭৩ মাইল বেগে উড়ে যায়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে প্রথম দুটি স্বল্প পাল্লার স্কুয়াড এবং তৃতীয়টি ছিল সোভিয়েত প্রযুক্তিতে তৈরি মধ্যপাল্লার রোডং ক্ষেপণাস্ত্র। এদিকে নতুন করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হোয়াং কিয়ো-আন বলেন, ‘অতীতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসলেও চলতি বছর তা অনবরত হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।’ ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের নিন্দা করে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল নাকাতানি বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এই তত্পরতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশ চীন।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া চলতি মাসের প্রথম দিকে ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই আল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) স্থাপনে সম্মত হওয়ার পর এই উেক্ষপণ চালাল পিয়ংইয়ং। সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিকে নিজ দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ‘প্রত্যক্ষ হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল উত্তর কোরিয়া। উল্লেখ্য, পারমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই জানুয়ারি মাসে দেশটি চতুর্থবারের মত পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সঙ্গেও সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় উত্তর কোরিয়ার।
