এমপির ভাইয়ের পিটুনিতে নিহত হাসানের ময়না তদন্ত সম্পন্ন, তবে মামলা হয়নি

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৬, ১৫:৪৩
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর ছোটভাই মিন্টু চৌধুরী ও তার ক্যাডারদের বেধড়ক গনপিটুনিতে স্থানীয় যুবক হাসান আলী (২৩) নিহত হয়েছেন।
 
মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামে সংসদ সদস্যের বাসভবনের লিচুতলায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের ভাই মিন্টু চৌধুরীর পরিবার ও পুলিশ হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরির অভিযোগে দৌলতপুর আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই মিন্টু চৌধুরী সোনাইকুন্ডি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাসানকে ধরে নিয়ে আসে এবং তার নিজ বাড়ির আঙিনায় আটক রেখে ওই যুবকের উপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। নির্যাতন ও বেধড়ক মারপিটের এক পর্যায়ে যুবক হাসান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। হাসানকে পুলিশ প্রহরায় দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ সংসদ সদস্যের ছেলে কলিন্স চৌধুরীর নির্দেশে হাসানকে মুমূর্ষু অবস্থায় পিয়ারপুর ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মিন্টু মেম্বারের জিম্মায় তুলে দেয়। এরপর বিকালে তারাগুনিয়া ডাকবাংলোর প্রাচীরের পাশ থেকে পুলিশ হাসানের লাশ উদ্ধার করে। মুমূর্ষু ব্যক্তিকে পুলিশ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অন্যের জিম্মায় দেয়াকে যড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে দেখছে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সংসদ সদস্যের ভাই মিন্টু ও তার পরিবারের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে পুলিশ নিহত যুবককে চোর ও মাদকাসক্ত বলে অপবাদ ও অপপ্রচার করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
 
এলাকাবাসী জানান, সংসদ সদস্যের পরিবার ও তাদের ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে হাসানের পরিবার মামলা করতে সাহস পাচ্ছেনা। এবং তারা সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলার সাহস পায়নি।
 
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।