রোগীর শরীরে উপর্যুপরি ৮০ ইনজেকশন, পরে মৃত্যু

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৬, ০০:৫৫
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর শরীরে উপর্যুপরি ৮০ টি ইনজেকশন পুশ করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত মহির হোসেন মন্টু (৪৬) একজন ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিত্সক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং জড়িত চিকিত্সকের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীর পুত্র ইসতিয়াক আহমেদ সানি রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গনেশপুর বকুলতলা এলাকার মৃত আব্দুল গনির পুত্র ও স্টিল আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী মহির হোসেন মন্টু গতকাল সকালে একটি বাসে ঢাকা থেকে রংপুরে আসছিলেন। পথে বগুড়ায় তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বুধবার সকালে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিত্সকরা মন্টুর চিকিত্সার জন্য তার আত্মীয়-স্বজনকে দ্রুত বিভিন্ন নামের ৩৫টি ইনজেকশন নিয়ে আসতে বলেন। তারা দ্রুত ইনজেকশন নিয়ে এলে ইন্টার্ন চিকিত্সক ৩৫টি ইনজেকশনই পুশ করেন। পরে আরো ৪৫টি ইনজেকশন আনিয়ে সবগুলোই মন্টুর শরীরে পুশ করার কিছুক্ষণ পরে তার মৃত্যু হয়।
 
এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই ওয়ার্ডের দরজা বন্ধ করে তাদের বেধড়ক মারপিট করেন। খবর পেয়ে ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশের উপরও চড়াও হয়। এসময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। এ ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মন্টুর স্বজনদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। দুপুরে ঠিকাদারপাড়া ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি, রংপুর রেল স্টেশন রোডের রড, স্টিল আলমারি ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে ঘটনায় জড়িত চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরীর শাপলা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 
 
নিহত মন্টুর ছেলে সানি বলেন, ‘আমার বাবাকে হাসপাতালে চিকিত্সকরা ঠিকমত চিকিত্সা দেয়নি। এমনকি ভুল চিকিত্সা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে চিকিত্সক ও নার্সদের সঙ্গে সামান্য বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে তারা ওয়ার্ডের দরজা বন্ধ করে আমাদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।’
 
তবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম ভুল চিকিত্সায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীকে সঠিক চিকিত্সা সেবাই দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় রোগী আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয় বলে তিনি দাবি করেন।
 

রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।