রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের মূলোত্পাটনে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দফতরে শহীদ ক্যাপ্টেন হাফিজ হলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের দরবারে ভাষণ প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর হলি আর্টিজান রোস্তোরাঁয় বন্ধু প্রতিম বিদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং ঈদ-উল-ফিতরের দিনে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের নিকটে হামলার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ঘটনায় দেশবাসী মর্মাহত এবং কষ্ট পেয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালিরা একটি শান্তিপ্রিয় জাতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালি সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য। ফলে দেশবাসী এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনাকে কখনো সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, এই দেশের জনগণ কখনো এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সারা বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে সন্ত্রাসবাদেরও পরিবর্তন আসছে। এ কারণে পিজিআর সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে পিজিআর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, পিজিআর’র প্রতিটি সদস্যকে হতে হবে আরো দক্ষ ও তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সারা বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পরে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন এবং পিজিআর কর্মকর্তাদের সাথে ফটোসেশনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গির হারুন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ মাহফুজুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব, এসএসএফ-এর মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
