হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন ‘আইরিন’ চলাকালে গতকাল বুধবার কুরিয়ার গেট দিয়ে খালাসের প্রাক্কালে বোমা বানানোর সরঞ্জাম সন্দেহে একটি কুরিয়ার পার্সেল আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।
তিনি বলেন, সকালে বিমানবন্দরের কুরিয়ার গেট দিয়ে খালাসের সময় একটি পার্সেল জব্দ করা হয়েছে। ডকুমেন্ট ঘোষণায় এবং শুল্কায়িত আড়াই কেজির পার্সেলটি সন্দেহজনক হওয়ায় এটি তল্লাশি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, তল্লাশিতে পার্সেলের ভেতর বিভিন্ন সার্কিট, বোর্ড, ব্রিজ ও তার এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। তাত্ক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে বহনকারী সিএন্ডএফ এজেন্ট তমা ট্রেডের প্রতিনিধি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। বোমা তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার হতে পারে সন্দেহে পার্সেলটা আটক করে কাস্টমস গুদামে জমা দেয়া হয়। ডকুমেন্ট হিসেবে শুল্ক পরিশোধ করা হয় মাত্র ৫৩৫ টাকা।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, পার্সেলটা গত ৩ জুলাই টিজি-৩২১ নম্বর ফ্লাইটে এসসিএস এক্সপ্রেসের মাধ্যমে শাহজালালের ফ্রেইট ইউনিটে আসে। পণ্যটি ডকুমেন্ট খালাস করে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পণ্যটি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির নামে আসে। মিথ্যা ঘোষণার বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় সরঞ্জামাদি আটক দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে সারা দেশের বন্দরসমূহে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান ‘আইরিন’ পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পার্সেলের মাধ্যমে অবৈধভাবে হাল্কা অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক প্রতিরোধই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। এই অভিযান এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৩ টি দেশে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।
