ফেনী শহরের প্রানকেন্দ্রের খাল ও জলাশয়গুলো দখল করতে ভূমিদস্যুরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে ফেনী শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
শহরের দক্ষিণ অংশের খাজা আহম্মদ লেকে ভরাটের পর এবার খাজা আহম্মদ লেকের বিপরীতে পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শচিন্দ্রপাল ব্রিজের পর থেকে দাউদপুর পুল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জলাধারের ভরাট কাজ ভূমিদস্যুদের নির্দেশে দিন-রাত চলছে।চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে একই চক্র ফেনী রেল স্টেশনের বিলোনিয়া প্লাটফর্ম সংলগ্ন দমদমা খাল ও রেলওয়ের পুকুরটিসহ প্রায় তিন শ ৬৬ ডেসিমেল জলাধারের ভরাট কাজ করছে। যে কারণে যৎ সামান্য বৃষ্টির পানিতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফেনী শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একের পর এক খাল ও জলাশয় ভরাট হলেও জেলার পরিবেশ বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভূমিকা পালন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতি-সম্প্রতি ভূমিদস্যুরা ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ট্রাঙ্ক রোডের পূর্বপাশে দাউদপুর পুল খালটি ভরাট করে তিন শ ৬৫টি দোকান নির্মাণ করে। ওই সময় জনৈক সাখাওয়াত হোসেন এ ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে বিচারক নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশ দেয়। পরবর্তীতে ভূমি দস্যুরা হাইকোর্টের নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশটি প্রত্যাহার করিয়ে দ্রুত এসব দোকানের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।IMG0
ভূমি দখলের ধারাবাহিকতায় চক্রটি শহরের পানি নিষ্কাশনের শেষ অবলম্বন ট্রাঙ্ক রোডের পূর্ব পাশের খাজা আহম্মদ লেকের বিপরীতে প্রায় দুই কিলোমিটারের জলাধারটিসহ দমদমা খাল ও রেলওয়ের তিন শ ৬৬ ডেসিমেল পুকুরটি ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ভরাটের কাজ শুরু করে। প্রশাসনের চোখের সামনে ভরাট কাজ চললেও জেলা প্রসাশন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা এ ব্যপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফেনী ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার রাসেলুল কাদির বলেন, ‘খাজা আহমদ লেকের বিপরীত পাশে দশমী ঘাটের উত্তরপার্শ্বে শচিন্দ্রখাল ঈদের আগের দিন বালি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করে ভূমিদস্যুরা। আমরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা বন্ধ করে দিই । পরে এ ঘটনায় ভুমিদস্যু গোলাম রসুল ভুইয়া গংদের নোটিশ প্রদান করি।’
ফেনী জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান বলেন, ‘জলাধার ভরাট করার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সহসা পাগলিছড়া খালের গড়ে উঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদসহ ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অপর দিকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, স্টেশনের সামনে বিশাল জলাধারটি দখলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকার ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ, প্রশাসনের যোগসাজসে ভূমিদস্যুরা এ বিশাল খাল ভরাটের সাহস পেয়েছে। তাদের কাছে লিখিত অভিযোগের পরও খাল ভরাট অব্যাহত রেখেছে।
ফেনীর খালগুলো ভূমিদস্যুরা ভরাট করে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি।’
