‘২০১৯ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস’

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৬, ২০:৫৯
ভারতের ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় নির্বাচনেই মূখ্যশক্তি হয়ে উঠতে চায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন সরকার তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের শহীদ দিবসের সমাবেশে দলটির নেতাদের মুখে উঠে এসেছে।
 
১৯৯৩ সালে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় যাতে ১৩ জন নিহত হয়। সেই স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে ভারতের কেন্দ্রে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সরকার গঠন করার পরে ‍দুইমাস আগেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেখানে সরকার গঠন করেছে তৃণমূল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নজর দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে। কেন্দ্রে তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র মুকুল রায় সমাবেশে বলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির সরকারের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যেই দল এগোচ্ছে। মুকুল রায়ের পর তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আভাস দিয়েছেন, লোকসভা এবং রাজ্যসভায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চায় দল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও বেশি আসনে জয় পাওয়াই তৃণমূলের লক্ষ্য
 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণেও উঠে এসেছে শীর্ষ দুই নেতার বক্তব্যের প্রতিচ্ছবি। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল অর্থনীতির কারণে দেনা করে করে অনেক রাজ্য আজ মৃত্যুর ফাঁদে পা দিয়েছে। আধার কার্ড না থাকলে পেনশন, স্কলারশিপ, সরকারি ভর্তুকি, এলপিজি-সহ নানান সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে কেন্দ্র যে নীতি নেওয়ার কথা বলছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, টাকা দেওয়ার বেলায় খোঁজ নেই, কিল মারার গোঁসাই!
 
কেন্দ্রীয় সরকার এখন রাজ্য সরকারের কাজে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি, সব ব্যাপারে কেন্দ্র আজ নাক গলাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে সমস্ত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে।’ সেই প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, আগামী দিনে কেন্দ্রে সরকার কেমন ভাবে চলা উচিত। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতে চান। কিন্তু আমি চাই না। আমি চাই কুঁড়েঘরেই থাকতে। ছোট্ট ঘরে থাকতেই আমার ভাল লাগে। আমরা বন্ধু দলগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা সাহায্য করব। আঞ্চলিক দলগুলি শক্তিশালী হোক আমি চাই। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও মজবুত হোক। সংসদে আমাদের এমপিরা ভাল ভাবে কাজ করুন আমি চাই।
 
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে তৃণমূলকে ছড়িয়ে দিতে যে এ বার তিনি অনেক বেশি উৎসাহী, তা-ও মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন। ত্রিপুরায় কংগ্রেস পরিষদের দল ভেঙে দিয়ে সদলবলে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায়বর্মনকে এ দিনের মঞ্চে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে। মমতা নিজের ভাষণেও বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ত্রিপুরাতেও আমাদের সরকার হবে।  তিনি নিজেও ত্রিপুরা যাবেন বলে শহীদ স্মরণের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করে হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আনন্দবাজার।