মাহবুব শরীফ
বিভিন্ন কাজের জন্য আমরা অনেক ওয়েবসাইট ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকি। এ ধরনের ওয়েবসাইটে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। অনেকগুলো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখা খুব একটি সহজ কাজ নয়। এজন্য অনেকে পাসওয়ার্ড লিখে রাখে ডায়েরিতে বা স্মার্টফোনের ড্রাফটে। তাদের এই কঠিন কাজটি আরও সহজে সমাধান করা সম্ভব। চাইলে তারা একটি ভালো মানের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার দিয়ে আপনি অনেকগুলো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যদিও আপনাকে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের পাসওয়ার্ডটি মনে রাখতে হবে।
অনলাইনে অনেক পাসওয়ার্ড ম্যানেজার পাওয়া যায়। সবগুলো আপনার ব্যবহার উপযোগী নাও হতে পারে। এজন্য যে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি বেছে নিবেন সেটি সম্পর্কে আগে ভালো করে জেনে নিন যে, ওই ম্যানেজারের কি কি সুবিধা রয়েছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে যেগুলো না থাকলে এই ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। এগুলো হলো-
ইমপোর্ট/এক্সপোর্ট
যে কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের আগে দেখে নিবেন যে, ওটিতে ইমপোর্ট/এক্সপোর্ট সুবিধা রয়েছে কি-না? অনেক সময় এমন হতে পারে, আপনি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। যদি ইমপোর্ট/ এক্সপোর্ট সুবিধা বিদ্যমান না থাকে তাহলে আপানাকে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
ব্রাউজার সাপোর্ট
মান সম্পন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ব্রাউজার এক্সটেনশন থাকবে। এগুলো দিয়ে যেকোনো ব্রাউজারের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। শুধু পাসওয়ার্ড মনে রাখা নয়, অনেক আধুনিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ওয়েব পেজে ইনপুট করা ফর্মগুলোও মনে রাখতে পারে। সেগুলোকে সেভ করতে পারে।
একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার সুবিধা
ভালো মানের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে একই ওয়েবসাইটের একাধিক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি গুগল বা জিমেইলের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন। এ ক্ষেত্রে যদি একই ওয়েবসাইটের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান না থাকে তাহলে ওই ধরনের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার না করাই ভালো।
পাসওয়ার্ড জেনারেট
মান সম্পন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার হলে আপনি যখন নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খুলবেন তখন নিজে নিজেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড জেনারেট করবে। আপনার যতক্ষণ পছন্দ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন রকম পাসওয়ার্ড দেখাবে আপনাকে। এর পর আপনি একটিকে বাছাই করে নিলে সেটিকে স্টোর করে রাখবে। এজন্য আপনাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। আপনি শুধু পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখবেন। কারণ, মাস্টার পাসওয়ার্ড দিয়েই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার লগইন করতে হবে।
টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন
অতিরিক্ত বা বাড়তি নিরাপত্তার জন্য গুগল টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সুবিধা চালু করেছে অনেক আগেই। এই সুবিধাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট যদি নতুন কোনো ডিভাইসে লগইন করা হয় তাহলে সেট করা অপশন অনুযায়ী মোবাইলে অথবা মেইলে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর চলে যাবে। এই নম্বর দিয়ে আপনাকে একাউন্ট লগইন করতে হবে অথবা পারমিশন দিতে হবে। এজন্য আপনি যে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি ব্যবহার করতে যাচ্ছেন সেটিতে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সুবিধা আছে কি-না তা যাচাই করে নিন।
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে নিম্নে উল্লিখিত পাঁচটি থেকে একটি বেছে নিতে পারেন। কোনটিতে কী ফিচার রয়েছে তা জেনে নিন—
লাস্টপাস
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার হলো- ‘লাস্টপাস’। এই ম্যানেজারটির টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশ সুবিধাসহ যতগুলো সুবিধা থাকা প্রয়োজন তা সবগুলোই রয়েছে। দুর্বল পাসওয়ার্ড শনাক্ত করে আপনাকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানাবে। এ ছাড়াই, যে কোনো প্লাটফর্মে এই ম্যানেজারটি ব্যবহার করা যায়। অর্থাত্, সকল জনপ্রিয় ব্রাউজার এক্সটেশন রয়েছে লাস্টপাস পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের। ম্যানেজারটি ডাউনলোড করতে পারবেন https://www.lastpass.com/ এই ঠিকানা থেকে।
দাশল্যান
জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর মধ্যে আর একটি হলো ‘দাশল্যান’। এটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি ব্যবহার করা খুব সহজ এবং এর ইউজার ইন্টারফেস অনেক ভালো। একটি উন্নত পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যারে যা যা থাকা প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই রয়েছে এটিতে। তা ছাড়াও এতে কিছু আলাদা ফিচার রয়েছে যেগুলো অনেক পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে দেখা যায় না। আপনি জরুরি কন্টাক্ট অ্যাড করতে পারবেন, আর তারা আপনার পাসওয়ার্ড ডাটাবেজের নির্দিষ্ট অংশ আক্সেস করতে পারবে। এটি ডাউনলোড করতে পারবেন https://www.dashlane.com/ ঠিকানা থেকে।
কিপপাস
অন্যান্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের চেয়ে কিপপাস একটু আলাদা ধাঁচের। এটি মূলত বেসিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যার, যেখানে একটি সাধারণ পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের কোর ফিচারগুলো বিদ্যমান রয়েছে। সঙ্গে এটি প্লাগইন সাপোর্ট করে, প্লাগইন ব্যবহার করে আপনি একাধিক ফিচার যুক্ত করতে পারবেন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি একা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সাপোর্ট সমর্থন করে। এ ছাড়াও, আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থেকে ডাটা ইমপোর্ট/এক্সপোর্ট করতে পারে। তবে ডিভাইজগুলোর মধ্যে পাসওয়ার্ড সিঙ্ক বা ব্রাউজার থেকে স্বয়ংক্রিয় পাসওয়ার্ড ক্যাপচার করতে আলাদা প্লাগইন ব্যবহার করতে হবে। এটি পাওয়া যাবে https://keepass.info/ ঠিকানায়।
ওয়ান পাসওয়ার্ড
এটি এমন একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার যা সব ধরনের ব্রাউজারে সমর্থন করে। একই সঙ্গে যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমে এর নতুন সুবিধাগুলো কাজ করে। এতে সকল প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো তো রয়েছেই সঙ্গে ট্র্যাভেল মুডও রয়েছে। আপনি যখন ট্র্যাভেলে থাকবেন এটি আপনার ডিভাইজ থেকে সেন্সিটিভ ডাটাগুলো রিমুভ করে দেবে এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় সেগুলোকে রিস্টোর করা যেতে পারে। এই ম্যানেজারটি পাওয়া যাবে যঃঃঢ়ং://১ঢ়ধংংড়িত্ফ.পড়স/ ঠিকানায়।
ক্রোম পাসওয়ার্ড ম্যানেজার
গুগলের ক্রোম ব্রাউজার বেশ জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। এটির নিজস্ব পাসওয়ার্ড সেভ করার সুবিধা রয়েছে যা দিয়ে পরবর্তীতে আবার ব্যবহার উপযোগী। আপনার সেভ করা পাসওয়ার্ডগুলো ক্লাউডে স্টোর করা থাকে, এবং গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেগুলোকে আক্সেস করা যেতে পারে। আপনি চাইলে https://www.google.com/chrome/ ঠিকানায় গিয়ে ব্রাউজারটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
০
