কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যায় ১০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সেখানকার ৭০ হাজার মানুষ। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে বামনডাঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কালীগঞ্জে ওয়াবদা-ধনীরভিটা রাস্তা। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরো প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম। পানি উঠেছে এসব এলাকার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ভেসে গেছে তিন শতাধিক পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে আউশ ধান ক্ষেত ও রোপা আমন বীজ তলা।
অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সব নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুকূল ছাপিয়ে লোকালয়ে ঢুকে প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত করছে। পৌরসভাসভাসহ ১০ ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। বন্যা দুর্গতরা ঘর-বাড়ি ছেড়ে গৃহপালিত পশু নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ পার্শ্ববর্তী উঁচু জায়গায়। বন্যার্ত এসব এলাকায় সকল রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্লাবিত এলাকায় অন্তত তিন শতাধিক পুকুরের মাছ।
গত দুই দিনে পানির তোড়ে বামনডাঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কালীগঞ্জে ওয়াবদা-ধনীরভিটা রাস্তা ভেঙ্গে প্রবল বেগে ঢুকছে বন্যার পানি। ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম ও প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দেবে গেছে কালীগঞ্জ কুমেদপুর ব্রিজ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত তলিয়ে গেছে সাত হেক্টর আউশ ধানখেত, ১০০ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা ও ১৫ হেক্টর জমির সবজিখেত। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে নগদ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং ২৫ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি।
